কুষ্টিয়ার মিরপুরে আওয়ামী লীগ নেতাকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ
কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলায় এক নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকে দুর্বৃত্তরা গুলি করে গুরুতর আহত করেছে। রোববার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে আমলা বাজারে নিজ তামাকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে এই হামলা চালানো হয়। আহত নেতা শফিকুল ইসলাম ওরফে আজম (৫২) আমলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আহত নেতার অবস্থা সংকটাপন্ন
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) হোসেন ইমামের বর্ণনা অনুযায়ী, শফিকুল ইসলামের শরীরে তিনটি গুলি বিদ্ধ হয়েছে। গুলিগুলো তাঁর ডান চোখ, বাঁ চোয়াল এবং পেটের ওপরের অংশে আঘাত হেনেছে। সমস্ত গুলিই শরীরের অভ্যন্তরে রয়ে গেছে বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর এবং জীবননাশের ঝুঁকি রয়েছে।
হামলার বিস্তারিত বর্ণনা
স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশের তথ্যমতে, সন্ধ্যার সময় শফিকুল ইসলাম আমলা বাজারে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে ট্রাকে তামাক ওঠানো তদারকি করছিলেন। পৌনে সাতটার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে চড়ে পাঁচ থেকে ছয়জন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত সেখানে উপস্থিত হয়। একটি মোটরসাইকেল থেকে দুজন ব্যক্তি নেমে শফিকুল ইসলামকে ডেকে পাশে দাঁড় করায়। তাদের সবার মাথায় হেলমেট ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। কয়েক সেকেন্ড কথা বলার পর তারা পরপর তিনটি গুলি ছোড়ে এবং দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় বাজারের সাধারণ মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং স্থানীয়রা দ্রুত আহত নেতাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশের তদন্ত ও ব্যবস্থা
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) ফয়সাল মাহমুদ ঘটনার তদন্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হামলাকারীরা একটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে পালিয়েছে, যা পুলিশ জব্দ করেছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ম্যাগাজিন এবং তিনটি গুলির খোসাও উদ্ধার করা হয়েছে। মিরপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তদন্তে নিয়োজিত রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, শফিকুল ইসলামের বাড়ি বিল আমলা গ্রামে এবং তিনি স্থানীয়ভাবে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বলেছে, তারা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে এবং ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখছে।



