হাজী ছাবের আহমদের হলফনামা: 'রাজনীতি করতাম না' বলে আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী ছাবের আহমদ একটি হলফনামার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করেছেন। তিনি 'জীবনে কখনো রাজনীতি করতাম না' এই মর্মে তার অবস্থান ব্যক্ত করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
হলফনামার বিবরণ
গত ২৫ মার্চ চট্টগ্রাম আদালত ভবনের নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে হলফনামা সম্পাদন করেন হাজী ছাবের আহমদ। তিনি কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, 'আমি দীর্ঘদিন নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি এবং একই সঙ্গে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে ছিলাম। তবে পদটি আমাকে স্বপ্রণোদিতভাবে জেলা নেতারা দিয়েছিলেন। আমি কখনো রাজনীতি করতাম না। কখনো মিছিল মিটিংয়ে যেতাম না।'
অব্যাহতির কারণ
হাজী ছাবের আহমদ তার হলফনামায় ব্যক্তিগত শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক ক্লান্তিজনিত কারণ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, 'বর্তমানে ব্যক্তিগত শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক ক্লান্তিজনিত কারণে আমি উক্ত কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে অপারগ। ফলে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আমি ওই পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করলাম।'
রাজনৈতিক পটভূমি
হাজী ছাবের আহমদ আওয়ামী লীগের একজন 'দাপুটে' নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি কেন্দ্র থেকে নৌকা প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে একাধারে তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে নিম্নলিখিত দায়িত্বগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল:
- চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনবার নির্বাচিত
- কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন
- দীর্ঘদিন স্থানীয় সরকার পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা
প্রতিক্রিয়া ও আলোচনা
এই অব্যাহতির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেক ব্যবহারকারী এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ থেকে হাজী ছাবের আহমদের অব্যাহতির বিষয়ে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। হলফনামার মাধ্যমে রাজনৈতিক দল থেকে অব্যাহতি নেওয়ার এই পদ্ধতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অস্বাভাবিক নয়, তবে 'রাজনীতি করতাম না' এমন দাবি নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
হাজী ছাবের আহমদের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় পর্যায়ে এই বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে।



