বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ: সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, যেকোনো সংকটে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৯টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমবেত দলীয় সদস্যদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তৃতায় এ নির্দেশনা দেন।
রাস্তা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না
তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “আমাকে সর্বদা সংগঠনের কাজের জন্য কার্যালয়ে আসতে হবে। তবে রাস্তা বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না। জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছেন। তাই যেকোনো সংকটে আমাদের অবশ্যই তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।” তিনি দলীয় কর্মীদের ধৈর্য ধারণ করে দায়িত্বশীলভাবে পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনারও আহ্বান জানান।
নয়াপল্টনে তারেক রহমানের আগমন ও সমাবেশ
এর আগে, তারেক রহমান শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ১৫ মিনিটে নয়াপল্টনে পৌঁছান। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যদিও তাকে দলীয় কার্যালয়ে সংগঠনের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হতে হবে, তবে রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। তিনি কর্মীদের সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন। তার বক্তৃতার শুরুতে, তিনি যানজটে আটকে পড়া একটি অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত সরানোর জন্য অনুরোধ করেন।
তারেক রহমানের আগমনের খবর পাওয়ার পর, হাজার হাজার দলীয় কর্মী বিকেল থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়। জনসমাগম কাকরাইল থেকে ফকিরাপুল ক্রসিং পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
দুই ঘণ্টার বৈঠক ও উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে দলীয় কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, ড. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম এবং মো. শামিন কায়সার লিংকনসহ অনেকে।
উল্লেখ্য, দুই দশকের অনুপস্থিতির পর দেশে ফিরে আসার পর, তারেক রহমান গত ২৯ ডিসেম্বর সর্বশেষ কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন করেছিলেন। এই সফরে তিনি দলের নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার উপর জোর দেন।
জনগণের প্রতি দায়িত্বশীলতার বার্তা
তারেক রহমানের এই বক্তব্যে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির জনগণের প্রতি দায়িত্বশীলতার একটি স্পষ্ট বার্তা ফুটে উঠেছে। তিনি দলীয় কর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও সংগঠিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কোনো বিঘ্ন না ঘটে। এই নির্দেশনা দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জনসম্পর্ক রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



