রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ নেতাকে মারধর ও মোটরসাইকেল কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা
রাজশাহী মহানগরীর শাহ মখদুম থানা সংলগ্ন পবা নতুনপাড়া মহল্লায় এক আওয়ামী লীগ নেতাকে মারধর করে তার মোটরসাইকেল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকাল ৩টার দিকে সংঘটিত এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
ফিরোজ খান ফরহাদ নামের ওই আওয়ামী লীগ নেতা শাহমখদুম থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি মূলত ঢাকায় বসবাস করলেও মাঝে মাঝে স্বল্প সময়ের জন্য রাজশাহীর বাড়িতে আসতেন। এবার ঈদ উদযাপনের জন্য তিনি বাড়ি ফিরেছিলেন।
ফিরোজ খানের বক্তব্য অনুযায়ী, শাহ মখদুম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মামুন আলী, তার নিকটাত্মীয় মো. শাকিব, লালন ও মনাসহ কয়েকজন তাকে নির্মমভাবে মারধর করেছেন। এই হামলায় তার বাম হাত ভেঙে গেছে, বাহু ও কোমরের হাড়ে ফাটল ধরেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে কবিরাজ তার হাতে প্লাস্টার করে দিয়েছেন এবং কোমরে বাঁশের বাতা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার ক্রমবিকাশ
ফিরোজ খান জানান, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা না থাকায় তিনি নিয়মিত এলাকায় যাতায়াত করতেন। বৃহস্পতিবার তাকে দেখতে পেয়ে মামুন আলী চা খাওয়ার জন্য ডাকেন। এই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি মোটরসাইকেল থেকে নামার পরই অন্যরা এসে তাকে মারধর শুরু করেন। মারতে মারতে তাকে ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, থানার পাশেই এমন ঘটনা ঘটলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়নি। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলেও ভয়ে তিনি সেখানে ভর্তি হতে রাজি হননি। বর্তমানে তিনি গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করে আছেন।
মোটরসাইকেল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ
ফিরোজ খান অভিযোগ করেন, মারধরের পর শাকিব তার ডিসকভার ১১০ সিসির মোটরসাইকেলটি জোরপূর্বক কেড়ে নিয়েছেন। এলাকার কিছু ব্যক্তিকে তিনি এই বিষয়ে জানালে শাকিব তাদের বলেছেন যে মোটরসাইকেলটি থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তদের প্রতিক্রিয়া
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মামুন আলী প্রথমে দাবি করেন, এমন কোনো ঘটনার কথা তিনি মনে করতে পারছেন না। পরে তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগ আমলে ফিরোজ মানুষকে যে অত্যাচার-নির্যাতন করেছে, মানুষ এলাকায় পেয়ে তাকেও শায়েস্তা করেছে।" তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই ঘটনায় তিনি নিজে জড়িত নন।
অভিযুক্ত শাকিবও দাবি করেন, ঘটনা সম্পর্কে তার কিছুই মনে পড়ছে না এবং তিনি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নন। মোটরসাইকেল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন আখ্যায়িত করেন। তার মতে, কেউ তাকে ফাঁসাতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
শাহ মখদুম থানার ওসি ফারুক হোসেন ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, "ঘটনার ব্যাপারে আমরা শুনেছি। পরে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থলে কাউকে পায়নি। থানায় কেউ কোনো মোটরসাইকেলও জমা দেয়নি। এ নিয়ে কোনো অভিযোগও আমাদের কাছে পাওয়া যায়নি। যদি কোনো অভিযোগ পাই, তাহলে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এই ঘটনা রাজশাহীর স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ শোনা গেলেও সরাসরি মারধর ও সম্পদ কেড়ে নেওয়ার এমন ঘটনা নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মারধরের ভিডিওটি ঘটনাকে আরও জনসম্মুখে নিয়ে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফিরোজ খান দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় থাকলেও তার রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন আলোচনা রয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়াকে তারা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন।



