স্বাধীনতা উৎসবে শহীদ জিয়াকে স্বাধীনতার মূল নায়ক আখ্যা দিলেন খোমেনী ইহসান
স্বাধীনতা উৎসবে জিয়াকে মূল নায়ক আখ্যা

স্বাধীনতা উৎসবে শহীদ জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার মূল নায়ক হিসেবে ঘোষণা

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ উৎসবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল নায়ক হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত স্বাধীনতা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান এই দাবি উত্থাপন করেন।

ইতিহাসের পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান

খোমেনী ইহসান তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ শহীদ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমেই স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের যাত্রা সূচিত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, "শহীদ জিয়ার ঘোষণাই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত সূচনা। কিন্তু পরবর্তীতে ইতিহাসের ধারা পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হয়েছে।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজনৈতিক বক্তব্যের বিস্তারিত বিবরণ

খোমেনী ইহসান তার বক্তব্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন:

  • ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার পরিবর্তে ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তাদের কাছে আত্মসমর্পণ করানো হয়েছিল
  • স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের শাসনকে তিনি অবৈধ ও গণবিরোধী হিসেবে বর্ণনা করেন
  • ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সেনা অভ্যুত্থান এবং ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ জিয়ার ক্ষমতায় আসাকে তিনি ইতিহাসের সঠিক মোড় বলে অভিহিত করেন

শহীদ জিয়ার অবদানের পুনর্বিবেচনা

খোমেনী ইহসান শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারগুলোর উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  1. সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সংযোজন এবং আল্লাহর উপর আস্থাকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা
  2. বহুদলীয় গণতন্ত্র কায়েম করে ভারতীয় আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তি
  3. সেনাবাহিনীর শক্তিশালীকরণ এবং আইনি ক্ষমতা প্রদান
  4. আদালত, সংবাদপত্র ও জনগণের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার
  5. মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক জোরদার করে বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়ন
  6. প্রবাসী শ্রমিক প্রেরণ ও রেমিট্যান্স আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভিত্তি স্থাপন
  7. গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠা করে রপ্তানি আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন

জিয়া-পথ গবেষণার ঘোষণা

স্বাধীনতা উৎসবের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণায় খোমেনী ইহসান জানান, নতুন মুসলিম জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্রনায়ক জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে দেশ পরিচালনার সময়কালকে 'জিয়া-পথ' হিসেবে গ্রহণ করবে। এই পথের উপর গভীর গবেষণা ও নিয়মিত পাঠচক্র পরিচালনা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, "শহীদ জিয়া যে রাজনৈতিক পথ নির্দেশ রেখে গেছেন, তা বর্তমান চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বাস্তবতার আলোকে আমরা আরও বিকশিত করব।"

অনুষ্ঠানের অন্যান্য কার্যক্রম

এই স্বাধীনতা উৎসবে আরও যারা বক্তব্য রাখেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:

  • জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব
  • সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান
  • সদস্য সাইদুল ইসলাম ও বায়েজিদ বোস্তামি
  • বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ফজলুর রহমান
  • বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. আরিফুল ইসলাম
  • ইনসাফ গার্ডের সভাপতি খান রায়হান

ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে কুরআন তিলাওয়াত করেন হাফেজ শাকিল আহমেদ এবং সম্মিলিতভাবে দুরূদ পাঠ করা হয়। শহীদ নবাব সিরাজুদ্দৌলা থেকে শুরু করে ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের শহীদদের জন্য বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কেক কেটে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয় এবং একটি নাগরিক টি পার্টির আয়োজন করা হয়। এই উৎসবটি শহীদ জিয়াউর রহমানের জীবন ও আদর্শকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।