এনসিপির অভিযোগ: সরকারঘনিষ্ঠদের তেল মজুতদারিতে দেশে সংকট তৈরি
দেশে চলমান তেল সংকটের পেছনে সরকারঘনিষ্ঠদের মজুতদারির অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এ অভিযোগ করেন। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, সরকারের ঘনিষ্ঠ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তেল মজুত করছে বলে তাদের সন্দেহ রয়েছে।
অভিজ্ঞতার আলোকে বিস্ময় প্রকাশ
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার বক্তব্যে বলেন, 'আমি পূর্ববর্তী সরকারের পারচেজিং কমিটিতে ছিলাম। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি দেশে সাধারণত অন্তত দুই মাসের তেল মজুত থাকে।' তিনি আরও যোগ করেন যে, এই বিবেচনায় মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এমন তীব্র সংকট তৈরি হওয়া অত্যন্ত বিস্ময়কর ও অস্বাভাবিক ঘটনা।
তিনি স্পষ্টভাবে অভিযোগ করেন, 'নিশ্চয়ই সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে বড় কোন কোম্পানি তেল মজুদ করছে। তা না হলে হরমুজ প্রণালী বন্ধের মাত্র এক মাসের মাথায় দেশে তেল সঙ্কট হওয়ার কথা নয়।' এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে সরকারের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
বিএনপির সমালোচনা ও রাজনৈতিক অবস্থান
এ সময় বিএনপির সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে দলটি গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তোলেন, 'যাদের প্রশাসক করা হচ্ছে, তারাই যদি পরে নির্বাচনে অংশ নেয়, তাহলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা কোথায় থাকবে?'
তিনি আরও বলেন, সরকার যদি 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নের পথে এগোয়, তাহলে এনসিপি সহযোগিতা করবে। অন্যথায় জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে ভিন্ন অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। এই বক্তব্যে দলের রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার আভাস পাওয়া যায়।
অন্যান্য বক্তাদের অংশগ্রহণ
এ আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও মনিরা শারমিন। তাদের উপস্থিতি ও মতামত অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বাড়িয়েছে। এই সভাটি এনসিপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও জনগণের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতির একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে।
সর্বোপরি, এনসিপির এই অভিযোগ দেশের তেল সংকটের পেছনের সম্ভাব্য কারণ নিয়ে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। এটি সরকারের নীতির সমালোচনা ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



