স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্থান নিয়ে রুহিন হোসেন প্রিন্সের তীব্র উদ্বেগ
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন, যেখানে তিনি স্বাধীনতার দীর্ঘ বছর পরও দেশে গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির উত্থান বর্তমান সময়ের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার জন্য হুমকিস্বরূপ।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ঐতিহাসিক মন্তব্য
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ সকালে ঢাকার সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে রুহিন হোসেন প্রিন্স তার এই বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পর গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, শোষণমুক্ত বাংলাদেশ নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠার কথা ছিল না, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি উল্লেখ করেন যে, গণতন্ত্র এখনও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন অধরা থেকে গেছে।
তিনি আরও যোগ করেন, উগ্র দক্ষিণপন্থি শক্তির উত্থান এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির আস্ফালন উদ্বেগজনক। বিশেষত, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন।
ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহ্বান ও জনসচেতনতার ডাক
রুহিন হোসেন প্রিন্স ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেন, তাদের উচিত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া এবং স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে দমনে ভূমিকা পালন করা। তবে, তিনি শুধু সরকারের উপর নির্ভর না করে দেশবাসী ও সচেতন মানুষের কাছেও আবেদন রাখেন।
তিনি বলেন, আসুন, আমরা আরেকবার মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় জাগ্রত হই এবং স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে পরাভূত করি। একইসঙ্গে, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংগ্রামে নীতিনিষ্ঠ অবস্থান থেকে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
রুহিন হোসেন প্রিন্সের এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেছে, যা দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন করে ভাবনার আহ্বান জানাচ্ছে।



