জামায়াত নেতার মন্তব্য: ৪৭-৭১ এর স্বাধীনতা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করেনি
বাংলাদেশ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ লড়াইয়ের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা জনগণের ইচ্ছা ও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তিনি বুধবার (২৫ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন।
তিনবার স্বাধীনতা অর্জন, তবু বৈষম্য বিদ্যমান
গোলাম পরওয়ার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, একবার নয়, এই ভূখণ্ড মোট তিনবার স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছেন, এতবার স্বাধীনতা লাভের পরও দেশে বৈষম্য ও অসাম্য দূর হয়নি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যে সংঘটিত সংগ্রাম ও যুদ্ধের মাধ্যমে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
জামায়াত নেতা আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আমরা পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি। এই ব্যর্থতার কারণেই তিনি ২০২৪ সালের চলমান আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তার মতে, বর্তমান সময়ের আন্দোলনগুলো স্বাধীনতার অসম্পূর্ণতা পূরণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে উদ্বেগ
আলোচনা সভায় জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমানে আমরা যে বার্তা ও সংকেত পাচ্ছি, তা মোটেই সুখকর নয়। তিনি সরকারের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে সরকার দল সম্পূর্ণভাবে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, সরকার দল এখন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং সংবিধান সংস্কারের বিরুদ্ধে নানা অযুহাত ও বাধা তৈরি করছে। এই পরিস্থিতি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি মনে করেন।
জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যে ভোট পড়েছে, তা বিএনপির ভোটের চেয়ে অনেক বেশি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই মাসের জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও দাবি পূরণের জন্য সনদের পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানান, যেন তারা জনগণের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হয়। গোলাম পরওয়ারের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাত ঘটাতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



