জামায়াত আমীরের স্বাধীনতা দিবসে বিশেষ আহ্বান: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের প্রত্যাশা
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান এবং স্বাধীনতার মূল চেতনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা
বিবৃতিতে জামায়াত আমীর স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনতা গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের যে মৌলিক প্রত্যাশা নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তার অনেক আকাঙ্ক্ষাই এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে।’
জুলাই গণআন্দোলন ও নতুন যাত্রার সূচনা
ডা. শফিকুর রহমান ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার জুলাই গণআন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মানুষ মুক্তি পেয়েছে। দেশ একটি নতুন সরকারের অধীনে যাত্রা শুরু করেছে।’ তিনি মানুষের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এখন মানুষের প্রত্যাশা, দেশে নতুন করে কেউ আর ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাবে না। মানুষ ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে বসবাস করবে এবং দেশ ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বমুক্ত হবে।’
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জোরালো দাবি
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষর এবং গণভোটের মাধ্যমে জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে স্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে। কিন্তু সরকারের মধ্যে এ বিষয়ে অনীহা ও টালবাহানা দেখা যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘টালবাহানা না করে সরকারকে অবিলম্বে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’
শ্রদ্ধা নিবেদন ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
ডা. শফিকুর রহমান মহান স্বাধীনতা দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ১৯৭১ সালে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সাথে ২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও শ্রদ্ধা জানান। তিনি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহের কারণে মানবতা মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে।’
এ ধরনের সংকটময় মুহূর্তে তিনি দেশবাসীকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান এবং মহান আল্লাহর কাছে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি জনগণের সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। তার এই বিবৃতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাত করেছে এবং স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে জাতীয় সংলাপকে আরও গতিশীল করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



