লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার অভিযোগ: ব্যাংক অচল, মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি
লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণ অনুষ্ঠানে পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাট ও টাকা পাচারের কারণে বাংলাদেশের সাত থেকে আটটি ব্যাংক অচল অবস্থায় রয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের ১৫ কোটি টাকাও এসব ব্যাংকের একটি ইউনিয়ন ব্যাংকে আটকে আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
আজ মঙ্গলবার লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, ‘একটা কঠিন সময়ে আমাদের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। এই কঠিন সময় পার করাও কঠিন। এর জন্য দরকার সবার আন্তরিকতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।’ তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, কোনোভাবেই যেন দুর্নীতি না হয়। সেটা জেলা পরিষদ হোক, পৌরসভা, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসন বা এলজিইডিতে হোক, দুর্নীতির বিষয়ে ছাড় নেই। দুর্নীতি হলে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তকে দায় নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীও এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছেন। যদি কেউ কোনো দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতির অভিযোগ
শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, ‘সারা দেশে অনেক মেগা (বৃহৎ) প্রকল্প হয়েছে। এই মেগা প্রকল্পের সুবিধাভোগী গ্রামের মানুষ নন, আমরা সাধারণ মানুষও নই। হয়তো এটা সাময়িক ক্ষেত্রে আপনার-আমার বিশেষ প্রয়োজন হয়। তবে এমন মেগা প্রকল্প হয়েছে, যা না করলেও চলত। ১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ১০ হাজার কোটি টাকায় হয়েছে। মেগা প্রকল্পগুলোতে মেগা দুর্নীতি হয়েছে।’ তাঁর এই মন্তব্যে মেগা প্রকল্পের ব্যয় ও সুবিধা বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা
জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাহাব উদ্দিন সাবুর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, জেলা জামায়াতের আমির এস ইউ এম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
এই ঘটনায় লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের আর্থিক অবস্থা ও সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলতে পারে।



