জামায়াত নেতার অভিযোগ: ষড়যন্ত্রে দাঁড়িপাল্লাকে মেইনস্ট্রিম রাজনীতিতে আসতে দেওয়া হয়নি
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দাঁড়িপাল্লাকে মেইনস্ট্রিম রাজনীতিতে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাতিল শক্তির একত্রিত প্রচেষ্টার অভিযোগ
রফিকুল ইসলাম খান দাবি করেন, সকল বাতিল শক্তি একত্রিত হয়ে প্রতিবেশী বিদেশিদের সহায়তা নিয়ে দাঁড়িপাল্লাকে মেইনস্ট্রিমে আসতে দেয়নি। তিনি বলেন, মানুষ প্রত্যাশা করছিল, এবার দাঁড়িপাল্লার জোয়ার কেউ ঠেকাতে পারবে না, কিন্তু তা হয়নি। তার মতে, এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে।
ইন্টেরিম সরকারের উপদেষ্টার বক্তব্যের উল্লেখ
জামায়াত নেতা আরও অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যে ইন্টেরিম সরকারের এক অন্যতম উপদেষ্টা রাজস্বাক্ষী হয়ে বলেছেন, নির্বাচনে তাদের (জামায়াত) মেইনস্ট্রিমে আসতে দেয়নি। তিনি বলেন, গত দেড় বছর আওয়ামী লীগের চেহারা দেখা যায়নি, কিন্তু ভোটের দিন তারা তাদের চিরশত্রু ধানের শীষকে ভোট দিয়েছে। এই মন্তব্যে তিনি নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও রাজনৈতিক বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করেন।
সংবিধান ও জুলাই সনদ নিয়ে সমালোচনা
রফিকুল ইসলাম খান সংবিধান বিষয়ক মন্তব্য করে বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সেক্রেটারি কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দিয়ে বলতেন, আমরা সংবিধানের বাইরে এক চুলও নড়ব না। তিনি অভিযোগ করেন, আপনারাও সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাইকে অবজ্ঞা করে কথাবার্তা বলছেন। তার মতে, জুলাইকে পাশ কাটিয়ে অতীতকে ভুলে যাওয়া হচ্ছে, যা জনগণ মানবে না।
তিনি পরামর্শ দেন, টালবাহানা না করে দ্রুত গণপরিষদের শপথ গ্রহণ করে জুলাই সনদকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত, যাতে জনরোষ থেকে বাঁচা যায়। এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
ইসলামের বিজয় ও লড়াইয়ের অঙ্গীকার
রফিকুল ইসলাম খান আরও যোগ করেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামের বিজয় থামানো যাবে না। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, যতদিন দেশে ইসলামের বিজয় না হবে, ততদিন আমরা লড়াই চালাবো। এই লক্ষ্যে তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলাকে অত্যাবশ্যক হিসেবে উল্লেখ করেন।
সিরাজগঞ্জের এই অনুষ্ঠানে জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন, যারা তার বক্তব্যে সাড়া দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই বক্তব্য আগামী দিনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।



