নাটোরের সিংড়ায় আধিপত্য বিরোধে সংঘর্ষ: যুবদল নেতাসহ ৮ জন আহত
নাটোরে আধিপত্য বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ৮

নাটোরের সিংড়ায় আধিপত্য বিরোধে দফায় দফায় সংঘর্ষ: যুবদল নেতাসহ ৮ জন আহত

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববর্তী বিরোধকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা এই হামলায় ডাহিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকসহ উভয় পক্ষের মোট আটজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও প্রাইভেট কার ও বাড়িঘর ভাঙচুরের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের মাধা বাঁশবাড়িয়া গ্রামে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কয়েক দফায় এই হামলা ও সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ডাহিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক (৪৫), আক্কাছ আলী (৪০), হাবিবুর (৫০), এমদাদুল হক (৩৫), রবিউল করিম (৪৫), রফিকুল ইসলাম (৬০)। অপর পক্ষ থেকে আহত হয়েছেন রাসেল প্রামাণিক (২২) ও মাহবুব হোসেন (৩০)।

আহতদেরকে রাজশাহী, বগুড়া শহীদ জিয়া, নাটোর সদর ও সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ ও ২০০০ সালের দুটি হত্যা মামলা এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি কর্মী সুজাউদ্দৌলা সূর্য্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান হোসেন লাবুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংঘর্ষের পটভূমি ও বর্তমান অবস্থা

রোববার সকালে স্থানীয় কবরস্থানে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রায় ৫০-৬০ জন নেতাকর্মী তাণ্ডব চালায়, যা পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। অনেক বাসিন্দা ঘরের মধ্যেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে বিকাল ৩টার দিকে সিংড়া থানার ওসিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিএনপি কর্মী সুজাউদ্দৌলা সূর্য্য মোবাইল ফোনে দাবি করেন, হত্যা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অন্যায়ভাবে তাদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নতুন গাড়ি ও বাড়িঘর ভাঙচুর এবং যুবদল নেতাকে মারধর করে তাণ্ডব চালিয়েছে।

অভিযুক্ত ডাহিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান হোসেন লাবু বলেন, তিনি আল্লাহর রাস্তায় চিল্লায় রয়েছেন এবং তার গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও ডাহিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শারফুল ইসলাম বুলবুল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সিংড়া থানার ওসি আসম আব্দুন নুর বলেন, পূর্বের হত্যা মামলা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং কোনো পক্ষ থেকে এখনও অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে অভিযোগ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।