তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন: ক্ষমতা কেবল দায়িত্ব, দায়িত্বহীন ক্ষমতা নেই
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন স্পষ্ট করে বলেছেন, দায়িত্বহীন কোনো ক্ষমতা নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্ষমতা কেবলমাত্র দায়িত্বের সমার্থক, এবং দায়িত্ব পালন করতে ক্ষমতার প্রয়োজন হয়। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় নিজ নির্বাচনি এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন। শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপিসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।
দারোয়ানের উদাহরণে ক্ষমতার প্রকৃত অর্থ
জহির উদ্দিন স্বপন একটি সহজ উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন: "পাহারাদারকে আমরা ক্ষমতা দেই চোর-ডাকাত যাতে না ঢুকতে পারে। দারোয়ানের ক্ষমতা কি বাড়ির মালিকানা ক্ষমতা? বাড়ির মালিক তো ঘুমায়, কিন্তু বোকা দারোয়ান মনে করে, আমিই ক্ষমতাবান, আমিই মনে হয় মালিক।" তিনি এভাবে বোঝান যে ক্ষমতাসীন রাজনীতিবিদদের আসলে দারোয়ানের মতো দায়িত্ব পালন করতে হয়, এবং তারা জনগণের সেবক মাত্র।
গণঅভ্যুত্থানের সতর্কবার্তা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
তথ্যমন্ত্রী আরও সতর্ক করে বলেন, "একটা পদ্ধতিগতভাবে যখন জনগণের ক্ষমতা দখল করে রাখতে চায় তখন গণঅভ্যুত্থান তৈরি হয়। বিস্ফোরণ তৈরি হয়। দুপুরের রান্না করা খাবার পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী খেতে পারে নাই। আজ আমরা ক্ষমতাসীন দল। এই উদাহরণ আমাদের ধারণ করতে হবে। যাতে আমরা কখনই এই ভুল দ্বারা আক্রান্ত না হই। আমরা কখনই স্বৈরতান্ত্রিক রোগে আক্রান্ত না হই। যেকারণে নেতৃবৃন্দকে সবসময় সজাগ থাকতে হবে।" তিনি ইঙ্গিত দেন যে অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ক্ষমতাসীনদের জনগণের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখা জরুরি।
নেতাদের প্রতি আহ্বান: ঔদ্ধত্য পরিহার করুন
জহির উদ্দিন স্বপন ক্ষমতাসীন রাজনীতিবিদদের উদ্দেশ্যে বলেন, "ক্ষমতাসীন রাজনীতিবিদদের বুঝতে হবে আমরা সবাই কিন্তু দারোয়ানের দায়িত্ব পালন করছি। ক্ষমতা মানেই জনগণ। আপনাদের কথায় বার্তায়, কখন যেন ঔদ্ধত্য প্রকাশ না পায়।" তিনি নিজের উদাহরণ টেনে বলেন, "আমাকে প্রধানমন্ত্রী তথ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছে। আমি যদি সেটাকে দায়িত্ব মনে না করে, ক্ষমতা মনে করি। আমরা সামনে পুলিশ, পেছনে পুলিশ, আমরা কথা ইউএনও শুনে এসিল্যান্ড শুনে। এই ভাবনা যখন আমার মধ্যে ঢুকবে আমি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবো। তাহলে ওই একই পরিণতি হবে।" এভাবে তিনি নেতাদের জনগণের কাছাকাছি থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে, যা দায়িত্ব ও ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার উপর জোর দেয়। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে ক্ষমতা কখনই ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য নয়, বরং জনসেবার একটি মাধ্যম।



