পাবনায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির জামিনে মুক্তির পর হামলা, ফাঁকা গুলিতে ১০ জন আহত
পাবনায় জামিনে মুক্ত আসামির হামলায় ১০ জন আহত

পাবনা সদর উপজেলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির জামিনে মুক্তির পর হামলা

পাবনা সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা সাইদার রহমান মালিথা হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা জামিনে কারামুক্ত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে, যাতে অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

ঘটনার সময় ও স্থান

শনিবার (২১ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের মন্ডলের মোড় ও কিসমত প্রতাপপুর এলাকায় এ হামলা সংঘটিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুলাল মালিথা ও রুজু মালিথা জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

আহতদের বিবরণ

গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন আবুল কালাম আজাদ (৫৩), আলিম মালিথা (৪৫) ও সজীব মালিথা (৩৮)। তারা কিসমত প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তোফাজ্জল মালিথার ছেলে। এ ছাড়া আরও সাত জন আহত হন, যাদের পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসকরা গুরুতর আহত আবুল কালাম আজাদ ও আলিম মালিথাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্বের বিরোধ ও হত্যা মামলা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য সাইদার রহমান মালিথা ও হেমায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মালিথার মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সাইদার রহমান মালিথাকে গুলি ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পরে মামলায় গত বছরের ২০ আগস্ট নয় জনের ফাঁসির রায় ও পাঁচ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামলার পটভূমি

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আলাউদ্দিন মালিথার অনুসারীরা প্রতিপক্ষ নিহত সাইদার রহমান মালিথার অনুসারীদের ওপর এ হামলা চালিয়েছেন। শনিবার রাতে সাইদার রহমানের অনুসারী তোফাজ্জল মালিথার ছেলেদের সঙ্গে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুলাল মালিথা, রুজু মালিথা ও তাদের সহযোগীদের কথা কাটাকাটি হয়, যা হামলায় রূপ নেয়।

পুলিশের পদক্ষেপ

খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। পাবনা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় কুমার সাহা বলেন, ‘পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে গোলাগুলির কোনও আলামত পাওয়া যায়নি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

হেমায়েতপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তারিকুল ইসলাম জানান, ‘সম্প্রতি দণ্ডপ্রাপ্ত দুলাল মালিথা ও রুজু মালিথা জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আমরা দুই পক্ষকে শান্ত থাকতে বলেছিলাম। কিন্তু এরই মধ্যে এমন ঘটনা ঘটে গেছে।’ পুলিশ এখন ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে।