রাজশাহীর তানোরে বিএনপি নেতার প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় সাবেক পৌর মেয়র ও রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার সকালে তানোর বাজারের কুঠিপাড়া রোডে অবস্থিত বরেন্দ্র ভবনে এ ঘটনা সংঘটিত হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এক তরুণকে আটক করেছে, যিনি হামলাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন।
ঘটনার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
ওই ভবনের চতুর্থ তলায় বিএনপি নেতার মালিকানাধীন বরেন্দ্র কেবল টিভি নেটওয়ার্কের সার্ভার রুম ও কন্ট্রোল রুম রয়েছে। হামলাকারী মেহেদী হাসান (২৫) ঈদের ছুটির কারণে অফিস বন্ধ থাকায় ভবনে কেউ না থাকার সুযোগে মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তিনি সরাসরি চারতলায় উঠে সার্ভার ও কন্ট্রোল রুমে ভাঙচুর চালান, আগে থেকেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। তাঁর কাছে হাতুড়ি, বড় হাঁসুয়া, প্লাসসহ দেশীয় অস্ত্র ছিল।
বরেন্দ্র কেবল টিভি নেটওয়ার্কের ইলেকট্রিশিয়ান জাকির হোসেন জানান, সার্ভার রুমের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে, যাতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মাসুম এটিকে পরিকল্পিত নাশকতা বলে উল্লেখ করেন, কারণ হামলাকারী সরাসরি সার্ভার রুমে গিয়ে ভাঙচুর করেছেন।
আটক ও পুলিশি তদন্ত
ঘটনাটি টের পেয়ে পথচারীরা পুলিশে খবর দিলে তানোর থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসকর্মী ও স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় মেহেদী হাসানকে আটক করা হয়। আটকের সময় তিনি নিজেকে বাঁচাতে পাগলের ভান করেন এবং ছাদ থেকে একটি এসি ফেলে দেন। এ সময় তিনি ইট ছুড়ে জনতার ওপর হামলার চেষ্টা করেন বলেও জানা গেছে। পরে পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, মেহেদীকে আটক করা হয়েছে, এবং জনতার হাতে আটক হওয়ার সময়ই তিনি আহত হয়েছিলেন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কথাই বলতে পারেননি, তবে তিনি একজন মৎস্য ব্যবসায়ী বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৯ সালে যুবলীগ নেতা লুৎফর হায়দার রশিদ উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ডিশের ব্যবসা নিজের দখলে নেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে পটপরিবর্তনের পর মিজানুর রহমান তাঁর কাছ থেকে ডিশ ব্যবসার দখল ছিনিয়ে নেন, এবং এরপর এই হামলার ঘটনা ঘটে।
মেহেদী হাসানের রাজনৈতিক কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি, তবে তাঁর চাচা জালাল উদ্দিন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তানোর পৌর জামায়াতের আমির দাবি করেছেন, জালালের ভাতিজা কোনোভাবেই তাঁদের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন।
বরেন্দ্র কেবল টিভি নেটওয়ার্কের মালিক মিজানুর রহমান বলেন, 'আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।' স্থানীয় বাসিন্দা সোগান ও শামসুলের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারী অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন, এবং অনেক দামি যন্ত্রপাতি নষ্ট করা হয়েছে।



