জামায়াতের অভিযোগ: পরাজিত প্রার্থীদের প্রশাসক নিয়োগে সরকার ‘কোটার’ পক্ষে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকারের বিরুদ্ধে কোটাভিত্তিক নিয়োগের সংস্কৃতি চালু করার তীব্র অভিযোগ তুলেছে। দলটির অভিযোগ, সরকার পরাজিত প্রার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসক পদে নিয়োগ দিয়ে মেধা ও জনসমর্থনের পরিবর্তে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তীব্র সমালোচনা
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি ১১টি সিটি করপোরেশন এবং ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে এমন ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে যারা বিগত নির্বাচনে জনগণের ভোটে পরাজিত হয়েছেন।
মাওলানা আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং খুলনা সিটি করপোরেশনে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। তার ভাষ্য, জাতীয় নির্বাচনের অল্প সময়ের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে এ ধরনের নিয়োগ সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
জুলাইয়ের আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি
তিনি আরও বলেন, গত ১৮ বছর ধরে যে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে, বর্তমান সরকার সেই একই পথে হাঁটছে। জনমতের তোয়াক্কা না করে দলীয় ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হচ্ছে, যা জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থি। জুলাইয়ের যে স্পিরিট ছিল ‘কোটা না মেধা’, সেই মেধাকে উপেক্ষা করছে সরকার।
মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাসহ কয়েকটি জেলায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হলেও সেখানে পরাজিতদের প্রশাসক করা হয়েছে। গাইবান্ধা-৩ আসনে পরাজিত এক নেতাকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে তিনি জনমতের অবমাননা বলে উল্লেখ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ নিয়েও সমালোচনা করা হয়। আব্দুল হালিম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যদের সরিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় নতুনদের বসানো হচ্ছে। একইভাবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদে একজন পেশাদারের পরিবর্তে ব্যবসায়ীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, সরকার যদি জনমতের তোয়াক্কা না করে দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন চালিয়ে যায়, তাহলে রাজপথে আন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান ও প্রচার বিভাগের সহকারী মুজিবুল আলমসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সরকারের নিয়োগ নীতির তীব্র সমালোচনা করে গণতান্ত্রিক রীতি ও জনমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
জামায়াতের এই অভিযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের কৌশল হিসেবে প্রশাসক নিয়োগকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে বলে দলটি মনে করে।
