এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের অভিযোগ: বিএনপি আদালতকে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে
এনসিপি নেতার অভিযোগ: বিএনপি আদালতকে ব্যবহার করছে

এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের অভিযোগ: বিএনপি আদালতকে ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, ঢাকা-১১ সংসদীয় আসনের বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ূম ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে দায়ের করা মামলাটি সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের একটি চেষ্টা। তিনি মনে করেন, বিএনপি আদালতকে ব্যবহার করার মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের পথে রয়েছে।

ইফতার মাহফিলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব

আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা আয়োজিত এক ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অনেক ষড়যন্ত্র ও চেষ্টার পরও তারা (বিএনপি) ঢাকা-১১ আসনের ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিতে পারেনি। এখন তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আদালতকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এলাকার ভোটাররা এর জবাব দেবেন। আমরা মনে করি, পুরো দেশেই আসলে নির্বাচনের ফলাফলে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। যেখানে আমাদের অভিযোগ করার কথা, সেখানে আমাদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা সরকারে থেকে সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।’

সংস্কার ও বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে মতামত

নাহিদ ইসলাম সংস্কারের বিষয়ে বিএনপির অবস্থানকে অস্পষ্ট বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘সংস্কারের পক্ষে কোনো দল না দাঁড়ালেও এনসিপি দাঁড়াবে। বিএনপি ঘুরিয়ে–পেঁচিয়ে কথা বলছে। ঈদের পর সংসদ অধিবেশনে গণভোট বা গণরায় নিয়ে তাদের অবস্থান কী, তা আরও স্পষ্টভাবে জানতে চাওয়া হবে। এর ওপর ভিত্তি করে আমাদের (বিরোধী দল) চূড়ান্ত অবস্থান ব্যক্ত করা হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিএনপি গণভোটের পুরো জিনিসটাকেই এখন মানছে না। গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিষয়গুলো মীমাংসিত ছিল, একটা ঐকমত্যও ছিল। কিন্তু বিএনপি এখন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো মানছে না। তাদের মনমতো করে, তাদের ইশতেহার অনুযায়ী তারা সংস্কার হয়তো করতে চায়। যদি এমনটাই হয়, তাহলে ঐকমত্য কমিশন, এত আলাপ-আলোচনা—সবকিছুই ব্যর্থ ও বিফল।’

বিরোধী দলের দায়িত্বশীল আচরণের প্রতিশ্রুতি

বিরোধী দলের ভূমিকা সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিরোধী দল হিসেবে আমরা দায়িত্বশীল আচরণ করতে চাই, দায়িত্বশীল ভূমিকায় থাকতে চাই। বিরোধী দল মানেই যে সব সময় বিরোধিতা করতে হবে, তা নয়। এখন দেশের যে পরিস্থিতি, যে জ্বালানি–সংকট, এই সামগ্রিক অর্থনীতির জায়গায় দেশের জনগণ ভালো থাকবে, সেই জায়গায় আমরা সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতাই করতে চেয়েছিলাম। এখন সরকার যদি আমাদের সর্বাত্মক বিরোধিতার দিকে ঠেলে দেয়, সেটার জন্য আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা দেখব সরকারের আচরণ।’

তিনি স্পষ্ট করেন, ‘প্রথম অধিবেশনে আমরা ওয়াকআউট করেছি। যেখানে যেখানে কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন, সেখানে সম্পূর্ণভাবে নিচ্ছি। যেখানে একটা সমঝোতার জায়গা থাকা প্রয়োজন, সেই জায়গাটুকুও আমরা রাখছি। আমরা সব দরজা বন্ধ করছি না।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ

এই ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সর্দার আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।