বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ
বিএনপির সৈয়দ এমরান সালেহ ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত

স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহকে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তিনি আজ সোমবার সকালে ঢাকার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদুল হাসানের কাছে দায়িত্ব গ্রহণপত্রে স্বাক্ষর করেন। এই নিয়োগটি পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, যেখানে তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচনী পরাজয় ও রাজনৈতিক পটভূমি

সৈয়দ এমরান সালেহ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে দলের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সালমান ওমরের কাছে মাত্র ৬ হাজার ৩৩৯ ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হন। এই পরাজয়ের পর তিনি ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে উচ্চ আদালতে মামলা করেন, এবং ৩ মার্চ নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল আবেদন গ্রহণ করে ব্যালট পেপার-রেজাল্ট শিট হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

সৈয়দ এমরান সালেহ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনকালে বৃহত্তর ময়মনসিংহের পাঁচ জেলায় দলকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে যুগ্ম মহাসচিবের পদে উন্নীত হয়ে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন।

নেতা-কর্মীদের প্রতিক্রিয়া ও প্রত্যাশা

স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে এই নিয়োগ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল তিনি মন্ত্রী পরিষদে স্থান পাবেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা হয়নি। তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, জেল খেটেছেন এবং দলকে সংগঠিত করেছেন। নির্বাচনে পরাজয় আমরা মেনে নিতে পারছি না, এবং মামলার ফলাফলের অপেক্ষায় আছি।’

ময়মনসিংহ জেলা উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক এনায়েত উল্লাহ মন্তব্য করেন, ‘তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন এবং যথেষ্ট শ্রম দিয়েছেন। এই পদটি তাঁর জন্য ছোট হতে পারে, কিন্তু দলের নির্দেশে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। যদি তিনি নির্বাচিত হতেন, তবে পূর্ণ মন্ত্রী হতেন। এটি তাঁর কর্মকাণ্ডের একটি স্বীকৃতি হিসেবে দেখা যেতে পারে।’

সৈয়দ এমরান সালেহের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

দায়িত্ব গ্রহণের পর সৈয়দ এমরান সালেহ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী আমি ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বভার নিতে সম্মতি জ্ঞাপন করেছি। আমি জেলা পরিষদকে শক্তিশালী করে জনগণের কাছে নিয়ে যেতে আত্মনিয়োগ করব। তবে আমি বিশ্বাস করি, এখানে আমার অবস্থান দীর্ঘ মেয়াদে হবে না, যা আদালতের সিদ্ধান্ত ও ব্যালট পুনর্গণনার ওপর নির্ভর করবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বকে ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেখতে চাই না। যতক্ষণ এই পদে থাকব, তত সময়ে এটাকে জনসেবার একটি বিকল্প প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করব। রাজনৈতিক কর্মীরা বড় পদের প্রত্যাশা করতে পারেন, কিন্তু আমি প্রশাসক হিসেবে সরাসরি জেলার উন্নয়নমূলক কাজের তদারকি এবং মানুষের পাশে থাকার সুযোগটি কাজে লাগাতে চাই।’

এই নিয়োগটি বিএনপি সরকারের আমলে সৈয়দ এমরান সালেহের রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও কিছু মহল এটিকে নির্বাচনী পরাজয়ের পর একটি সান্ত্বনাপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন। ভবিষ্যতে আদালতের রায় ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন এই পদে তাঁর অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।