এনপিপিএ'র অবস্থান কর্মসূচি: মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি স্থগিত ও সংসদে পর্যালোচনার জোর দাবি
রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ) আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংসদ ভবনের সামনে 'দেশবিরোধী মার্কিন চুক্তি স্থগিতের দাবিতে' অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। এই কর্মসূচিতে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তির বিরুদ্ধে চারটি দাবি উত্থাপন করে, যার মধ্যে জাতীয় সংসদে পর্যালোচনার মাধ্যমে এর ক্ষতিকর ধারাগুলোর বাস্তবায়ন স্থগিত রাখা অন্যতম।
গোপনীয়তা ও অসম চুক্তির তীব্র সমালোচনা
এনপিপিএ'র কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য অনিক রায় লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যে জনগণের সঙ্গে আলোচনা না করে প্রায় গোপনীয়তার আবরণে এই অসম বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বক্তব্যে বলা হয়, "এই চুক্তি শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবন এবং বাংলাদেশের সার্বভৌম নীতিনির্ধারণ ক্ষমতাকে বিপন্ন করছে। জ্বালানি, কৃষিসহ সম্ভাবনাময় বিভিন্ন শিল্পকে হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।"
মার্কিন বাণিজ্যচাপ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান
লিখিত বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গত ২০ ফেব্রুয়ারি একটি ঐতিহাসিক রায়ে শুল্ক বাতিল করে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের আইনি ক্ষমতাকে অবৈধ ঘোষণা করে। সর্বশেষ ১১ মার্চ মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে, যা প্রমাণ করে মার্কিন বাণিজ্যচাপ নতুন রূপ নিচ্ছে। এনপিপিএ জোর দিয়ে বলে, "কোনো বৃহৎ শক্তির ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বলি হওয়া বাংলাদেশের পথ হতে পারে না। ভয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি কখনো সমান হয় না।"
রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এনপিপিএ'র মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত সমাপনী বক্তব্যে বলেন, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সায়ে এই চুক্তি করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "সার্বভৌমত্ব কি শুধু ভারতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য? সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদার।" এনপিপিএ'র কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসু অভিযোগ করেন যে যুক্তরাষ্ট্রের তাঁবেদারি করার ক্ষেত্রে মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য দেখা যায়।
কর্মসূচির বিস্তারিত ও অংশগ্রহণকারী
এই অবস্থান কর্মসূচির ব্যানারে লেখা ছিল 'দেশবিরোধী মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি স্থগিত কর'। অংশগ্রহণকারীদের হাতে প্ল্যাকার্ডে বিভিন্ন স্লোগান দেখা যায়, যেমন:
- কার সাথে ব্যবসা, বলে দেবে আমেরিকা!
- বাজার বাংলাদেশের, সিদ্ধান্ত আমেরিকার!
- বাণিজ্যের নামে কর্তৃত্ব ফলানোর চুক্তি
- দিল্লি না ওয়াশিংটন, ঢাকা ঢাকা
- বাণিজ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপ চাই না
- অসম চুক্তিকে না বলুন
কর্মসূচির সঞ্চালক ছিলেন এনপিপিএ'র কাউন্সিল সদস্য শামীম আরা নিপা। উপস্থিত ছিলেন এনপিপিএ'র সদস্য বাকী বিল্লাহ, অলিক মৃ, ইমতিয়াজ নাদভী, রাফসান আহমেদ, মাঈন আহমেদ, নূমান আহমাদ চৌধুরী প্রমুখ। এনপিপিএ'র কাউন্সিল সদস্য কৌশিক আহমেদ প্রত্যাশা জানান যে এই বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো কথা বলবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বাম ও মধ্যপন্থী তরুণদের উদ্যোগে গঠিত এনপিপিএ তাদের এই অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও দেশীয় শিল্প রক্ষার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে, পাশাপাশি সংসদে পর্যালোচনার আগে চুক্তি স্থগিত রাখার দাবি তুলে ধরেছে।
