রাজশাহীর সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে হুমকি ও টাকা খাওয়ার অভিযোগ
রাজশাহী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে হুমকি প্রদান ও টাকা খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ৯ মার্চ রাতে একটি গ্রুপ কলের মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা তাঁর বিরুদ্ধে নেতাদের মাধ্যমে টাকা খাওয়ার অভিযোগ তোলেন।
গ্রুপ কলে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়
ওই গ্রুপ কলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল সরকার ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তাঁর চাচাতো ভাইয়ের চাকরির জন্য ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা জমা দেওয়া হয়েছিল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘তুই আমার সামনে পড়লে তোর অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। তুই যা তা বলবি না আমার সামনে।’ উত্তরে ফয়সাল সরকার জবাব দেন, ‘কী করবেন, মেরে ফেলবেন? যদি আপনার হাতে মৃত্যু থাকে, তবে মরে যাব, তবে টাকা আপনি খেয়েছেন।’ এরপর ফারুক চৌধুরী গ্রুপ বন্ধ করার নির্দেশ দেন।
থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল
ফয়সাল সরকার (৩৫) গতকাল বুধবার তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি তানোর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং বর্তমানে তানোর পাইলট স্কুলের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করছেন। ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে দ্বিমতের কারণে তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে দূরে আছেন।
অভিযোগে ফয়সাল সরকার জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী রামিল হাসানের কথায় বিশ্বাস করে তিনি ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে গ্রুপ কলে যুক্ত হন। এই গ্রুপের কথোপকথনের একাংশের ভিডিও প্রথম আলোর হাতে এসেছে, যা ৯ মার্চ রাত ১১টার দিকে শুরু হয়।
হুমকি ও ভয়ভীতির অভিযোগ
ফয়সাল সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই ওমর ফারুক চৌধুরী তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছিলেন। গ্রুপ কলে রাজনীতি ও নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে প্রতিবাদ করায় বিবাদীরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন এবং ওমর ফারুক চৌধুরীর নির্দেশে বিভিন্ন রকমের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, বিবাদীরা যেকোনো সময় তাঁর বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন, তাই পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ করেছেন। আত্মগোপনে থাকায় ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া
তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, একটি অভিযোগ হাতে পেয়েছেন এবং বিষয়টির আইনগত দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, অভিযোগে ওমর ফারুক চৌধুরীসহ ছয়জনকে বিবাদী করা হয়েছে, যা এখন তদন্তাধীন রয়েছে।
এই ঘটনা রাজশাহী অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
