এনসিপির গাইবান্ধা জেলায় তীব্র অভ্যন্তরীণ সংঘাত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাইবান্ধা জেলায় তীব্র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের প্রকাশ ঘটেছে। দলের ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র শক্তির জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামি জিম গাইবান্ধা জেলার আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম খুদিকে প্রকাশ্যে জুতা পেটা ও রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বুধবার (১১ মার্চ) রাত প্রায় ১১টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে ১৭ মিনিটের একটি লাইভে এসে তিনি এই বক্তব্য তুলে ধরেন।
লাইভে উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবি
লাইভের শুরুতে জিম দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনে তিনি আহত হয়েছেন এবং তার শরীরে এখনও রাবার বুলেটের চিহ্ন রয়েছে। ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে করা মামলারও তিনি একজন বাদী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জাতীয় ছাত্র শক্তির একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে কোনও ফ্যাসিস্টের সঙ্গে বা এমন কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করা সম্ভব নয়। গাইবান্ধায় খুদিকে পদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই তারা প্রতিবাদ করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লাইভের প্রায় ১১ মিনিটের দিকে জিম বলেন, জুলাইয়ে আমার শরীরে রাবার বুলেট আছে, পুলিশ নির্যাতন করেছে। আমার শরীরে রক্ত থাকতে খুদি আপনাকে মেনে নেবো না। আপনাকে কীভাবে প্রতিহত করতে হয়, তা আমাদের জানা আছে। খুদিকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, রংপুরে একটি কর্মসূচিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে খুদি অভিযোগ করেছেন, গাইবান্ধার নতুন কমিটির নেতারা নেশাখোর।
প্রমাণ ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি
জিম দাবি করেন, এই অভিযোগের প্রমাণ দিতে হবে; অন্যথায় প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে তাকে গাইবান্ধায় রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ সময় তিনি কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সংগঠনের রাজনীতি আগের মতো চলছে না। যদি খুদিকে নিয়ে রাজনীতি করতে চান, তাহলে গাইবান্ধায় এসে বাস্তবতা দেখার জন্যও চ্যালেঞ্জ জানান তিনি।
জিম আরও বলেন, তার এই বক্তব্য শুনে কেউ তাকে উন্মাদ বা পাগল ভাববেন না। তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ—নাহিদ, আখতার ও আতিক মুজাহিদসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আহ্বান জানান, দ্রুত খুদিকে গাইবান্ধার আহ্বায়কের পদ থেকে অপসারণ করতে। তার দাবি, খুদি একজন দুর্নীতিবাজ এবং তাকে দিয়ে গাইবান্ধার রাজনীতি চলবে না।
লাইভের কারণ ও পরিণতি
লাইভের শেষ দিকে জিম বলেন, হুমকি বা ভয়কে তিনি পরোয়া করেন না। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি ফেসবুক লাইভে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। এ কারণে তাকে যদি সংগঠন থেকে বরখাস্তও করা হয়, তাতেও তার আপত্তি নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক যোগাযোগের চেষ্টা করেও গাইবান্ধা এনসিপির আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম খুদির সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি; তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এই ঘটনা এনসিপির অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও গাইবান্ধা জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
