তথ্যমন্ত্রী স্বপন: গণমাধ্যমের শক্তিশালী ভূমিকায় অর্জিত গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ
তথ্যমন্ত্রী: গণমাধ্যমের ভূমিকায় গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখাই চ্যালেঞ্জ

গণমাধ্যমের ভূমিকায় অর্জিত গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ ফ্যাসিবাদবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের প্রতিটি পর্বে গণমাধ্যমই জনগণের মূল স্রোতের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। তিনি বলেন, প্রতিটি পর্বে ক্ষুদ্র একটি অংশ বিচ্ছিন্নভাবে বিরোধিতা করলেও গণমাধ্যমই সামগ্রিকভাবে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছে।

ইফতার মাহফিলে তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে নানা জেল-জুলুম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে এবং সর্বশেষ জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় গত ১২ ফেব্রুয়ারির ইতিহাসের অন্যতম অবাধ নির্বাচন আদায় করা সম্ভব হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটও তৈরি করেছে গণমাধ্যম। গণমাধ্যম জনগণের মনোবল গড়ে তুলেছে।

গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জ

অর্জিত গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এখন আমাদের হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। বর্তমান সংসদ নেতা ও নির্বাচিত সরকারপ্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক অর্জনকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপই ‘মব কালচার’কে প্রশ্রয় দেয় না। এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অর্জিত এই গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক ধারাকে অব্যাহত রাখা।’

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের শক্তিশালী ভূমিকার কারণেই দেশ সাংবিধানিক ধারার মধ্যেই সবকিছু এগিয়েছে। সংবিধান থেকে বিচ্যুত হওয়ার যে প্রবণতা দেখা দিয়েছিল, গণমাধ্যমের শক্তিশালী ভূমিকার কারণেই তা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার যে প্রচেষ্টা সরকার গ্রহণ করেছে, গণমাধ্যম তাকে আরও বেগবান করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তা

ডিইউজের সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরীসহ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।