বিএনপি মহাসচিবের আহ্বান: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সব পক্ষের সহযোগিতা জরুরি
বিএনপি মহাসচিবের আহ্বান: গণতন্ত্রে সব পক্ষের সহযোগিতা

বিএনপি মহাসচিবের আহ্বান: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সব পক্ষের সহযোগিতা জরুরি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য এখন একটি অনন্য সুযোগ এসেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামী ১২ মার্চ একটি নতুন ইতিহাস রচিত হতে যাচ্ছে, কারণ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বহুল কাঙ্ক্ষিত জাতীয় সংসদ গঠিত হবে। এই সংসদকে দেশের সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে সব রাজনৈতিক পক্ষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকদের ইফতার মাহফিলে বক্তব্য

বুধবার (১১ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশ ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল। এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ বিভিন্ন সাংবাদিক নেতারা।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর জোর

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে গণমাধ্যমের ওপর নানা রকম দমন-পীড়নের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। বিএনপি মহাসচিব আরও উল্লেখ করেন যে, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপির দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও সাংবাদিকদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন।"

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "ফ্যাসিস্টদের মতো সাংবাদিকদের ওপর আর যেন কেউ চড়াও না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমরা মনে করি, মুক্ত গণমাধ্যম সবার প্রত্যাশা।"

অন্যান্য বক্তাদের মতামত

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণ, রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যম—এই তিনের সমন্বয়েই দেশ এগিয়ে যাবে। তিনি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও জাতির আকাঙ্ক্ষা পূরণে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

এই ইফতার মাহফিলটি রাজনৈতিক ও সাংবাদিক সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।