ফ্যামিলি কার্ড নারীদের ক্ষমতায়নের হাতিয়ার: মির্জা ফখরুলের প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা
ফ্যামিলি কার্ড নারীদের ক্ষমতায়নের হাতিয়ার: মির্জা ফখরুল

ফ্যামিলি কার্ড নারীদের ক্ষমতায়নের হাতিয়ার: মির্জা ফখরুলের প্রতিশ্রুতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রহিমানপুর ইউনিয়নের সম্মিলিত ইউআই আলিম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার সকালে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলজিআরডি মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি তার বক্তব্যে ফ্যামিলি কার্ডকে নারীদের জন্য একটি শক্তি ও ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন।

নারীদের সামাজিক অবস্থান শক্তিশালী করবে ফ্যামিলি কার্ড

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড এ দেশে নারীদের একটা শক্তি বা ক্ষমতা৷ যেটা নিয়ে আপনি সব জায়গায় দাঁড়াতে পারবেন৷ এই কার্ডের মাধ্যমে একটা ক্ষমতা তৈরি হবে আপনাদের। পুরুষরা আপনাদের গুরুত্ব দেওয়া শুরু করবে৷’ তিনি উল্লেখ করেন যে, এই কার্ড বিতরণের মাধ্যমে নারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান আরও মজবুত হবে এবং সমাজে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।

সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড

মন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড প্রদান প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘সবার পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। তিনি আমাদের এই এলাকা বেছে নিয়েছেন৷ প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। এই কার্ড সবাই পাবেন, প্রত্যেক ঘরে ঘরে যাবে। শুধু সময়ের ব্যাপার।’ তিনি নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি স্মরণ করে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম সরকারে আসলে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে৷ আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে যাচ্ছি। আমরা আমাদের কথা রেখেছি।’

তিনি সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন:

  • সরকারে আসার ২২ দিনের মধ্যে কার্ড বিতরণ শুরু করা হয়েছে।
  • ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
  • ১৬ তারিখে খাল-খনন কাজ শুরু হবে, যা বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে খরায় ব্যবহার করা যাবে।
  • প্রত্যেক কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সার, সেচ ও বীজ কেনা সম্ভব হবে।

গত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘১৫ বছর দেশে আইনকানুন ছিল না৷ আমাদের নানাভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। টাকা ছাড়া কার্ড পাওয়া যেত না। এবারে কোনও টাকাপয়সা লাগেনি৷ হতাশ হবেন না, সবাইকে কার্ড দেওয়া হবে। নারী ডিসি-এসপিরাও কার্ড পাবেন৷ তিনি কী কাজে ব্যবহার করবেন সেটা পরের বিষয়৷ জনগণের শক্তির কাছে কোনও শক্তিই বড় নয়৷’

নিজ এলাকাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, আমার শেষ নির্বাচন। আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন৷ আমি আপনাদের ঋণ কখনও শোধ করতে পারবো না৷ তবে কিছু কাজ করে যেতে চাই৷’ তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে:

  1. ২০২৭ সালে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করা।
  2. বিশ্ববিদ্যালয় ও বিমানবন্দরের নির্মাণ কাজ শুরু করা।
  3. বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রদান।
  4. মাদকের রোষানল থেকে প্রজন্মকে রক্ষা করা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ

এই অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাংসদ ডা. আব্দুস সালাম, বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলাম এনডিসি, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমীন, সদর ইউএনও খায়রুল ইসলাম, স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ প্রশাসন, বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও উপকারভোগীরা বক্তব্য দেন। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।