বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন, যা তিনি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিশ্ব নারী দিবসের অনুষ্ঠানে তীব্র বক্তব্য
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে ‘মায়ের ডাক’ প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল। এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় অভিযোগ তুলে ধরেন।
গুম ও খুনের ঘটনায় অনুশোচনার অভাব
মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা গত দেড় দশকে অসংখ্য পরিবারকে নিঃস্ব করেছেন। তিনি বলেন, ‘শত শত মানুষকে গুম ও খুন করা হয়েছে, কিন্তু তার মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা দেখা যায়নি।’ তার মতে, গুম ও খুনের চেয়েও বড় ভয়াবহ বাস্তবতা হলো, প্রধানমন্ত্রীর এ নিয়ে কোনো অনুশোচনা ছিল না।
তিনি জানান, গুম হওয়া পরিবারগুলোর ভাতা দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিঠি লিখে আবেদন করা হবে। এছাড়াও, গুম ও খুনের শিকার পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সরকার আন্তরিক বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতির বর্ণনা
এই অনুষ্ঠানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য, মানবাধিকার কর্মী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের একটি মর্মস্পর্শী মুহূর্তে বিএনপির গুম হওয়া নেতা পারভেজ হোসেনের মেয়ে হৃদী স্মৃতিচারণ করেন। তার বক্তব্যে পুরো মিলনায়তনে থাকা অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন, যা অনুষ্ঠানের আবেগঘন পরিবেশকে আরও তীব্র করে তোলে।
মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যেখানে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ভারতে বসে দেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন। এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আরও উত্তপ্ত বিতর্কের দিকে ইঙ্গিত করছে।



