জামায়াতের অভিযোগ: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক চুক্তিতে তাদের মতামত নেয়নি
জামায়াতের অভিযোগ: তত্ত্বাবধায়ক সরকার চুক্তিতে মতামত নেয়নি

জামায়াতে ইসলামীর আমীরের অভিযোগ: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক চুক্তিতে তাদের মতামত নেয়নি

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান শুক্রবার অভিযোগ করেছেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বিভিন্ন দেশের সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোতে তার দলের সাথে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তিনি তার যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই অভিযোগ তুলে ধরেন।

চুক্তি স্বাক্ষরে আলোচনার দাবি

ড. শফিকুর রহমান তার পোস্টে উল্লেখ করেন, "তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে বিভিন্ন দেশের সাথে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। দুর্ভাগ্যবশত, সেই চুক্তিগুলো নিয়ে আমাদের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি।" তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী বারবার দাবি জানিয়েছে যে, সংসদ না থাকায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উচিত ছিল আন্তর্জাতিক চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, "অন্যান্য জাতীয় বিষয়ে সরকার যেমন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে, তেমনি এই চুক্তিগুলোতেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত ছিল।" তবে তিনি বলেন, সেই সময়ের সরকার তাদের দাবিগুলো বিবেচনায় নেয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্পষ্ট অবস্থান ও বিভ্রান্তি দূরীকরণ

জামায়াতের আমীর স্পষ্ট করে বলেন, "সরকার সে সময় আমাদের দাবিগুলো বিবেচনায় নেয়নি। তাই এই বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, এবং এখানে কোনো বিভ্রান্তি সৃষ্টির কোনো অবকাশ নেই।" তার এই বক্তব্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার অভাবের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষাপট

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে উল্লেখ্য, বুধবার বিদেশমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে দ্রুততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই বিষয়টি দেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের সাথে আগে থেকেই আলোচনা করা হয়েছিল এবং উভয় দলই চুক্তি স্বাক্ষরে সম্মতি দিয়েছিল।

বিদেশমন্ত্রীর এই বক্তব্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকেই প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে ধরা নেয়া হয়। তবে জামায়াতের আমীরের নতুন অভিযোগে দেখা যাচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত অন্যান্য চুক্তিগুলো নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা হয়নি বলে তারা মনে করেন।

এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক সংলাপ ও আলোচনার গুরুত্বকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে সংসদ না থাকার সময়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ কতটা প্রয়োজন, তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি হয়েছে।