বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদক দলীয়করণের অভিযোগ: নাহিদ ইসলামের তীব্র প্রতিবাদ
বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদক দলীয়করণের অভিযোগ

বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুদক দলীয়করণের অভিযোগ: নাহিদ ইসলামের তীব্র প্রতিবাদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার সুকৌশলে দলীয়করণ করছে।

ইফতার মাহফিলে বিদেশি কূটনীতিকদের সামনে অভিযোগ

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে এনসিপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে নাহিদ ইসলাম এ অভিযোগ করেন। এই অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ, কানাডা, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের হাইকমিশনার এবং ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, স্পেন ও শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দুদকের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হচ্ছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অশনিসংকেত।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সংস্কার প্রক্রিয়ায় যে গতি থাকার কথা ছিল, তা ব্যাহত হচ্ছে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জোর দাবি

নাহিদ ইসলাম জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুত 'সংবিধান সংস্কার পরিষদ' গঠনের জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, "আমরা অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানাই, যা আমাদের জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।" রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে জনকল্যাণে নিয়োজিত করার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, এই দলীয়করণ প্রক্রিয়া গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং এটি রাষ্ট্রের স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ব্যাহত করছে।

এনসিপি নেতাদের উপস্থিতি

ইফতার মাহফিলে এনসিপির অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

  • সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি
  • মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
  • সিনিয়র মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এমপি
  • যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ এমপি
  • যুগ্ম সদস্য সচিব ও আন্তর্জাতিক সেলের উপ-প্রধান আলাউদ্দীন মোহাম্মদ
  • যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও নুসরাত তাবাসসুম

এই অনুষ্ঠানটি এনসিপির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তাদের উদ্বেগ ও দাবি পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এবং সরকারের পদক্ষেপগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।