মাগুরায় নিষিদ্ধ কার্যক্রমের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ
মাগুরায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

মাগুরায় নিষিদ্ধ কার্যক্রমের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

মাগুরা জেলায় একটি উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটেছে, যেখানে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর ওই কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে শহরের জামরুলতলা এলাকায় এ ঘটনা সংঘটিত হয়। পুলিশ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের এক সহসভাপতিসহ তিনজনকে আটক করেছে, এবং বাকি সন্দেহভাজনদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয়েছে।

পতাকা উত্তোলন ও পরবর্তী ঘটনা

বিকাল ৪টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক হীরকের নেতৃত্বে ১০-১২ জন নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, তারা সেখানে মোনাজাত করে চলে যান। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এনামুল হক বলছেন, '৫ আগস্টের পর দীর্ঘ ১৮ মাস দলীয় কার্যালয় বন্ধ ছিল। এখন যেভাবেই হোক একটি নির্বাচনের মাধ্যমে একটি দল ক্ষমতায় এসেছে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতি শুরু হোক। আমরা একসঙ্গে মিলে বাংলাদেশকে আবার নতুন করে গড়তে চাই।'

এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা এসে পতাকা স্ট্যান্ড ভাঙচুর করেন। পরে তারা ওই ভবনের তৃতীয় তলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাঙা আসবাবে আগুন ধরিয়ে দেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

আটক ও তদন্ত

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক হীরক (৫২ বছর), জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সোনিয়া সুলতানা (৪০ বছর), এবং আওয়ামী লীগের কর্মী উসমান। মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিরাজুল ইসলাম জানান, 'কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যালয় খোলা ও প্রচারণা চালানোর অভিযোগে তিন জনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদেরও আটকের চেষ্টা চলছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আবদুর রহিম ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন, 'ঘটনা জানার পর সেখানে গিয়ে দেখি উৎসুক সাধারণ জনতা গণহত্যাকারী দল হিসেবে তাদের প্রতিহত করেছে। তবে তাদের দলীয় কার্যালয়ে কারা আগুন দিয়েছে জানি না।' এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মাগুরা পুলিশ এখন ঘটনার তদন্ত করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে করে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে না ঘটে।