সিলেটের দরগাহ প্রাঙ্গণে এনসিপি নেতাদের স্লোগান: তীব্র সমালোচনার ঝড়
সিলেটের ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনা হযরত শাহজালাল দরগাহ প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার রাতে তারাবিহর নামাজের সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কয়েকজন নেতা নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ দরগাহ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন।
ঘটনার বিবরণ ও প্রতিক্রিয়া
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নেতাদের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিপুলসংখ্যক সমর্থক দরগাহ এলাকায় জড়ো হন। একপর্যায়ে নারী ইবাদতখানার ছাদে উঠে সারজিস আলম বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেন। উপস্থিত অন্য নেতাকর্মীরাও স্লোগানে অংশ নেন। স্লোগানগুলোর মধ্যে ছিল- ‘দিল্লি না ঢাকা’, ‘আজাদি না গোলামি’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবর’, ‘দালালি না রাজপথ’, ‘আপস না সংগ্রাম’, ‘রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়’ ইত্যাদি।
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই পবিত্র দরগাহ প্রাঙ্গণে রাজনৈতিক স্লোগানকে অনভিপ্রেত ও অসম্মানজনক আখ্যা দেন। সিলেট জেলা বিএনপির উপ-দপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম ফেসবুকে এক পোস্টে অভিযোগ করেন- ‘একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে অশান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে।’
বিভিন্ন মহলের বক্তব্য
মাহবুব আলমের ভাষায়, ‘দরগাহ মসজিদের পবিত্র প্রাঙ্গণে স্লোগান দিয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করা কোনো শিষ্টাচারের পরিচয় নয় এবং এ ধরনের প্রবণতা রোধে সচেতন নাগরিক সমাজকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’ নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিমও সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন- সুলতানুল বাঙ্গাল হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজারে অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল দলীয় স্লোগান দেয়নি।
তার মতে, জিয়ারতের স্থানে এ ধরনের আচরণ সুফি দরগাহর আদবের পরিপন্থি। ফেসবুকে আরও অনেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, মাজার জিয়ারতের স্থান কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। সিলেটের ইতিহাসে এমন ঘটনা নজিরবিহীন বলেও অনেকে দাবি করেন। কেউ কেউ এনসিপি নেতাদের রাজনৈতিক অপরিপক্বতার প্রসঙ্গও তোলেন।
এনসিপির ব্যাখ্যা
এ বিষয়ে এনসিপির সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল বলেন, নেতারা নামাজ ও জিয়ারতের উদ্দেশ্যে দরগাহে গিয়েছিলেন। সেখানে স্লোগান দেওয়ার কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এই ঘটনা সিলেটের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গভীর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যেখানে ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা রক্ষার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
