রিজওয়ানার বক্তব্যে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন জামায়াত নেতা মিলন
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সাম্প্রতিক বক্তব্যে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি ডানপন্থি দল যেন দেশের রাজনীতিতে মেইনস্ট্রিমে আসতে না পারে, সে চেষ্টা তারা করেছেন এবং তাদের মেইনস্ট্রিম হতে দেননি। মিলন তার বিজ্ঞপ্তিতে এই বক্তব্যকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক, অগণতান্ত্রিক এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকারের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞার শামিল বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "কোন রাজনৈতিক দল মেইনস্ট্রিমে থাকবে আর কোন দল থাকবে না—এ সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি, উপদেষ্টা বা প্রশাসনিক গোষ্ঠীর নয়; এটি একমাত্র দেশের জনগণই তাদের ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করেন।"
নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ
মিলন আরও উল্লেখ করেন, সরকারের দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে এ ধরনের বক্তব্য শুধু অনভিপ্রেতই নয়, বরং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিকেই আরও জোরালোভাবে সত্য প্রতিপন্ন করে। তিনি দাবি করেন, এটি অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত নিরপেক্ষতার দাবিকেও চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
তার মতে, "বাংলাদেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে সমর্থন দিয়েছেন; কিন্তু প্রশাসনের ভেতরে থাকা কিছু পক্ষপাতদুষ্ট উপদেষ্টা ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার আমলাদের যোগসাজশে জনগণের রায়কে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে।"
জনগণের সচেতনতার উপর আস্থা
জামায়াত নেতা মিলন দৃঢ়ভাবে বলেন, বাংলাদেশের জনগণ রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং তারা জানেন কাকে সমর্থন করতে হবে ও কাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "আগামী দিনে দেশের জনগণ শুধু ভোটই দেবেন না, বরং তাদের ভোট পাহারা দিয়ে সত্য, ন্যায় ও গণতন্ত্রের পক্ষে রায় নিশ্চিত করবেন ইনশাআল্লাহ।"
তিনি গণতন্ত্রের স্বার্থে এ ধরনের অগণতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরও সংযত ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্মত বক্তব্য প্রত্যাশা করেন।
