বিএফআইইউর তথ্য তলব: আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট
বিএফআইইউর তথ্য তলব: আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া

বিএফআইইউর তথ্য তলব: আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট

বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে। সোমবার বিএফআইইউর পক্ষ থেকে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের সব তথ্য নথিভুক্ত করে বিএফআইইউতে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা ও আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ওই সরকারে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনজন উপদেষ্টা নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁদের একজন ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। প্রথমে তিনি শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান অবস্থান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছর ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ ছাড়েন আসিফ মাহমুদ। পরে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলবের বিষয়ে জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ মঙ্গলবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার জানা মতে, আমিসহ চারজন উপদেষ্টার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে।’ তবে অপর তিন উপদেষ্টার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে কি না বা চাওয়া হলে তাঁরা কে কে সে বিষয়ে প্রথম আলো জানতে পারেনি।

আইনগত প্রশ্ন ও প্রতিক্রিয়া

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ‘যেভাবে এটি (ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব) প্রকাশ করা হয়েছে, তা আইনসম্মত হলো কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। আমি নিজেই আগামীকাল নিজের ব্যাংক স্টেটমেন্ট উন্মুক্ত করে দেব।’ এই প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, তিনি তথ্য তলবের পদ্ধতি নিয়ে আইনগত সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিচ্ছেন।

বিএফআইইউর এই পদক্ষেপটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করার একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের তদন্ত বা তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া দেশের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।