মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের আহ্বান: রাজনীতিতে আধিপত্য নয়, জনসেবাই হোক মূল লক্ষ্য
রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারের মানসিকতা পরিহার করে জনগণের প্রকৃত সেবক হওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেল ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন।
রাজনীতির চর্চায় পরিবর্তনের তাগিদ
মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, 'রাজনীতি যদি সত্যিই জনকল্যাণের জন্য হয়, তবে বর্তমান চর্চায় আচরণগত এবং অনুশীলনগত পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি।' তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ঢাকা কলেজের মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের মাধ্যমেই এই ইতিবাচক পরিবর্তন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে এবং তারা দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
রমজানের শিক্ষা ও রাষ্ট্রীয় কল্যাণ
মাহে রমজানের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, 'রমজান কেবল উপবাসের মাস নয়, এটি নিজেকে পরিশীলিত করার এবং আত্মিক প্রশিক্ষণের মাস।' তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, একজন সাচ্চা মুসলিম সারা বছর কীভাবে চলবে, কীভাবে ভাববে—তারই মৌলিক শিক্ষা দেয় এই পবিত্র মাস। রাষ্ট্রের জন্য সেই শক্তিই প্রকৃত কল্যাণকর, যারা মুমিন, মুত্তাকি এবং সংযমী হিসেবে গড়ে উঠে। রমজানের এই শিক্ষায় সমাজকে আলোকিত করার উপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
ঢাকা কলেজের ঐতিহ্য ও শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব
ঢাকা কলেজের গৌরবময় ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, 'এই কলেজ থেকে অনেক জাতীয় নেতা উঠে এসেছেন, যারা দেশ বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন।' তিনি বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখনকার শিক্ষার্থীরাও দেশমাতৃকাকে হৃদয়ে ধারণ করবেন এবং তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'দলের পাল্লা ভারী করার চেয়ে জনগণের মনে দলের জায়গা করে নেয়াই বড় কাজ।' জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ছাত্রনেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের উপরও তিনি আলোকপাত করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি ও মন্ত্রীর আশ্বাস
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করলে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম তাদের আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, 'ঢাকা কলেজ আমার সংসদীয় আসন ঢাকা-১০ এর অন্তর্ভুক্ত। এখানকার প্রতিটি সমস্যা আমার নজরে আছে এবং আমি সেগুলো সমাধানে সচেষ্ট রয়েছি।' তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন এবং এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকার কার্পণ্য না করার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করেন।
মন্ত্রীর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা জনগণের সেবাকে প্রাধান্য দিয়ে রাজনীতির মৌলিক চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।
