সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার আদালতে স্বীকারোক্তি: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সেনাবাহিনীতে দুর্নীতি হয়েছিল
সাবেক সেনাপ্রধান: আ.লীগ সরকারের আমলে সেনাবাহিনীতে দুর্নীতি হয়েছিল

সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার আদালতে স্বীকারোক্তি: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সেনাবাহিনীতে দুর্নীতি হয়েছিল

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আদালতে জবানবন্দি দিয়ে স্বীকার করেছেন যে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সেনাবাহিনীর কেনাকাটা-সংক্রান্ত দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই বিষয়টি তার এখতিয়ারের বাইরে থাকার কারণে তিনি এ সংক্রান্ত কোনো তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেননি। পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার পঞ্চম দিনের জেরায় তিনি এই মর্মে স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেন।

জেরায় সাবেক সেনাপ্রধানের বিস্তারিত বক্তব্য

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসানের জেরার এক পর্যায়ে ইকবাল করিম ভূঁইয়া স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, 'আমি সেনাপ্রধান থাকাকালে কেনাকাটা-সংক্রান্ত দুর্নীতি হয়েছিল। তবে তা আমার এখতিয়ারের বাইরে বিধায় আমি এই বিষয়ে তদন্ত করি নাই।' আরেকটি প্রশ্নের জবাবে তিনি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন যে তিনি নিজেও কেনাকাটা-সংক্রান্ত দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলেন বলে তদন্ত এড়িয়ে গেছেন। তিনি বলেন, 'ইহা সত্য নহে যে আমি নিজেও কেনাকাটা-সংক্রান্ত বিষয়ে দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিলাম বলে তদন্ত করি নাই।'

তিনি আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে বলেন, 'ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সিনিয়র অফিসার অনেকেই ছিল। তবে তাদের নাম মনে নেই। অফিসারদের বিরুদ্ধে অবৈধ আয়ের উৎস শনাক্ত করে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করি নাই। কারণ, তা আমার এখতিয়ারের বাইরে ছিল।' এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলিতে তার সীমিত কর্তৃত্বের দিকটি তুলে ধরেছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার প্রেক্ষাপট

এই জবানবন্দি প্রদান করা হয় আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক ব্যক্তির গুম ও হত্যার ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার প্রসঙ্গে। ইকবাল করিম ভূঁইয়া এই মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি দিয়েছিলেন। এরপর ১৮ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং ২ মার্চ তারিখে তাকে আরও কয়েক দফা জেরা করা হয়েছিল। মঙ্গলবারের এই জেরা ছিল মামলার পঞ্চম দিনের কার্যক্রমের অংশ।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসান বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন এবং মঙ্গলবার তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।

রাজনৈতিক ও আইনি প্রভাব

সাবেক সেনাপ্রধানের এই স্বীকারোক্তি রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলিতে দুর্নীতির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। যদিও ইকবাল করিম ভূঁইয়া তার ব্যক্তিগত দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন, তবুও তার বক্তব্য সামরিক বাহিনীর কেনাকাটা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্বকে প্রাধান্য দিচ্ছে। এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।