বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি স্থগিত, ৯ এপ্রিল উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপট
বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ স্থগিত

বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি স্থগিত

আগামী ১০ মার্চ বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। বগুড়া সদর আসনে ৯ এপ্রিল উপনির্বাচন সামনে রেখে এই পূর্বনির্ধারিত সফরটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান সোমবার রাতে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। পরে নতুন তারিখ জানানো হবে।

কর্মসূচি বাতিলের পটভূমি

এর আগে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী এবং বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম গত ২৭ ফেব্রুয়ারি এলাকায় সফরকালে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ মার্চ বগুড়া সফরে এসে শাখারিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। তবে তিনি তখনই উল্লেখ করেছিলেন যে কর্মসূচির তারিখ চূড়ান্ত নয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ (সদর) ও ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। বিধি অনুযায়ী শপথের আগে তিনি বগুড়া-৬ (সদর) আসন ছেড়ে দেন। এরপর নির্বাচন কমিশন বগুড়া সদর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে এবং আগামী ৯ এপ্রিল উপনির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করেছে।

উপনির্বাচনের প্রার্থী ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি থেকে দলের জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাকে প্রার্থী করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন ২ মার্চ দুপুরে বিএনপির রেজাউল করিম বাদশা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর থেকে শহর শাখার আমির আবিদুর রহমান সোহেল ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল-আমিন তালুকদার প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর রেজাউল করিম বাদশা মন্তব্য করেন, যেহেতু বগুড়া-৬ সদর আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এ সময়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি পালন করলে নির্বাচন বিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠতে পারে। আর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মের মধ্যে থাকতে চান বলেই তার এ সফর স্থগিত করেছেন। এই বক্তব্য কর্মসূচি বাতিলের পেছনে রাজনৈতিক বিবেচনার ইঙ্গিত দেয়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

জেলা প্রশাসকের বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিটি ভবিষ্যতে নতুন তারিখে পুনরায় আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে উপনির্বাচনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তটি নির্বাচনী নীতিমালা ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বগুড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা এখন নতুন তারিখের জন্য অপেক্ষা করছেন, যাতে তারা সরকারের এই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পেতে পারেন।