এনসিপির সাধারণ সভায় জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাধারণ সভায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে দলটি আর কতদিন থাকবে, এই প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়েছে। তবে এই প্রশ্নের জবাবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন পরিষ্কার কোনো উত্তর দেননি। গত শুক্রবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।
সোচ্চার ভূমিকায় জ্যেষ্ঠ নেতারা
সভায় এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারোয়ার (নিভা) বেশ সক্রিয় ছিলেন। তাঁরা দলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন, যার মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্যের ভবিষ্যৎ একটি প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল। সামান্তা শারমিন সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, "জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী ঐক্য আর কত দিন থাকবে?" এই প্রশ্নের জবাবে শীর্ষ নেতারা সরাসরি উত্তর না দিয়ে সংসদ গঠন ও বিরোধী দলের ভূমিকার মতো বিষয়ে কথা বলেন।
জোটবিরোধী অবস্থান ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব
সভায় একজন সংসদ সদস্য প্রশ্ন তোলেন, কেন সামান্তা শারমিন ও নাহিদা সারোয়ার এখনো জামায়াতের বিরুদ্ধে জোটের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। উত্তরে সামান্তা ব্যাখ্যা করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জোট নিয়ে আলোচনা চলাকালীনই তাঁরা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন যে এই জোটে গেলে তাঁরা নির্বাচন করবেন না এবং জোটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন। শীর্ষ নেতৃত্ব তখন তাঁদের ইচ্ছার উপর বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছিলেন।
এছাড়াও, সভায় অনেকে মত দেন যে ১১-দলীয় ঐক্যে এনসিপির ৩০ জন প্রার্থীকে জামায়াত সমানভাবে সহযোগিতা করেনি। দলের কাউন্সিল কবে হবে, রাজনৈতিক পর্ষদ ও নির্বাহী কাউন্সিল কবে পুনর্গঠিত হবে—এসব প্রশ্নও উত্থাপিত হয়, কিন্তু সরাসরি কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
জোট সিদ্ধান্ত ও পদত্যাগের প্রভাব
জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী ঐক্যে যাওয়ার আগে এনসিপি স্বতন্ত্রভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা সাধারণ সভায় গৃহীত হয়েছিল। কিন্তু পরে নির্বাহী কমিটির আলোচনায় জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, তা নিয়ে সভায় প্রশ্ন তোলা হয়। শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বলা হয়, আলাদা সাধারণ সভা না হলেও অনেক নেতা ব্যক্তিগতভাবে জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়েছিলেন।
জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে এনসিপি থেকে অন্তত ১৭ জন নেতা পদত্যাগ করেছিলেন। সভায় পদত্যাগী নেতাদের ফেরাতে কোনো উদ্যোগ আছে কি না জানতে চাওয়া হলে, শীর্ষ নেতৃত্ব কোনো সক্রিয় উদ্যোগের কথা বলেননি। তবে কেউ নিজে থেকে দলে ফিরতে চাইলে দরজা খোলা রাখার কথা উল্লেখ করা হয়।
ভবিষ্যৎ আলোচনার আশ্বাস
সাধারণ সভার বিষয়ে এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের তিনজন নেতা মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে সামান্তা শারমিন বলেন, "সাধারণ সভায় আমরা দলের নির্বাচনসংক্রান্ত পর্যালোচনা করেছি। যেহেতু দলে ১১-দলীয় ঐক্যের বিষয়ে বিরোধিতা আছে, তাই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা প্রশ্ন করেছি। নেতৃত্বের জায়গা থেকে বলা হয়েছে, রমজানের পর দলের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আবার আলোচনা হবে।" এই মন্তব্যে ভবিষ্যতে আরও আলোচনার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, যদিও বর্তমানে জোটের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
