রাজশাহীতে ধ্বংস হওয়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যানার উত্তেজনা, বিএনপি কর্মীদের পোড়ানোর ঘটনা
রাজশাহীতে ধ্বংস কার্যালয়ে ব্যানার উত্তেজনা, বিএনপি কর্মীরা পুড়িয়েছেন

রাজশাহীতে ধ্বংস হওয়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ব্যানার উত্তেজনা

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়, যা আগেই বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তার সামনে টানানো একটি উদ্বোধনী ব্যানার ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরের কুমারপাড়া এলাকায় ধ্বংসস্তূপের সামনে টাঙানো এই ব্যানারটি বিএনপির নেতাকর্মীরা ছিঁড়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন।

পূর্বের ঘটনার পটভূমি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে। এরপর গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর শরীফ ওসমান হাদী নিহতের ঘটনার পর উত্তেজিত ছাত্র-জনতা পরিত্যক্ত ভবনটির অবশিষ্ট অংশও ধ্বংস করে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে ফেলে। এই ধ্বংসস্তূপের সামনেই শুক্রবার রাতে কে বা কারা একটি উদ্বোধনী ব্যানার টানিয়ে রেখে যায়, যা পরবর্তীতে উত্তেজনার সূত্রপাত করে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া

শনিবার সকালে ব্যানার টাঙানোর বিষয়টি জানাজানি হলে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে উপস্থিত হন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। ঘটনাস্থলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির মহানগর কমিটির বোয়ালিয়া পশ্চিমের সভাপতি শামসুল আলম মিলু। উপস্থিত নেতাকর্মীরা ব্যানারটি নামিয়ে টেনে ছিঁড়ে ফেলেন এবং পরে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।

শামসুল আলম মিলু বলেন, অস্তিত্বহীন একটি কার্যালয়ের সামনে উদ্বোধনী ব্যানার টানানো হয়েছে এ খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কারা ব্যানারটি লাগিয়েছে তা শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। কয়েকজনকে ব্যানার নিয়ে এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেলেও তাদের চেহারা স্পষ্ট বোঝা যায়নি। পরে উপস্থিত নেতাকর্মীরা ব্যানারটি অপসারণ করে আগুনে পুড়িয়ে দেন।

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত

নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, রাতের আঁধারে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ব্যানারটি টানিয়ে রেখে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পরে সেটি পুড়িয়ে ফেলার ঘটনাও তারা জেনেছেন। তবে কারা ব্যানার লাগিয়েছে বা কারা আগুন দিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এই ঘটনা রাজশাহীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।