ঈদের আগেই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের উৎসব ভাতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে: অনিন্দ্য ইসলাম
ঈদের আগে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের উৎসব ভাতা দেওয়ার চেষ্টা

ঈদুল ফিতরের আগেই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের উৎসব ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের সব মসজিদের খতিব ও ইমামদের পর্যায়ক্রমে উৎসব ভাতার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তিনি শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোরে মুক্তিযোদ্ধা ও পেশাজীবীদের সম্মানে জেলা বিএনপির ইফতার মাহফিলে বক্তৃতাকালে এ তথ্য প্রকাশ করেন।

বিএনপির প্রতিশ্রুতি ও সামাজিক উদ্যোগ

অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, বিএনপি নির্বাচনি ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে অসচ্ছল পরিবারের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনবে। এর ফলে রাষ্ট্র প্রতিমাসে তাদের সহযোগিতা করবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ এবং তাদের ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প ঈদের আগেই শুরু হচ্ছে। একইভাবে, ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মগুরুদের প্রতি মাসে সম্মানী ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ, মসজিদ ও মন্দির কমিটি তাদের যে ভাতা দেন, তা দিয়ে তাদের সংসার চলে না। ঈদুল ফিতরের আগে দেশের সব মসজিদের খতিব ও ইমামদের পর্যায়ক্রমে উৎসব ভাতার আওতায় আনার চেষ্টা শুরু হয়েছে, যার ধারাবাহিকতায় অন্য ধর্মগুরুরাও এই সুযোগের আওতায় আসবেন।

যশোরের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি

যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম যশোরবাসীর কাছে তার প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, যশোরে নিম্ন অঞ্চলে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে বর্ষা মৌসুমের আগে ৫০ শতাংশ ভোগান্তি কমে আসবে।

তিনি মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলের বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন, এই শহরে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে হলে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ থাকতে হবে। তিনি রমজানের ইফতারের পবিত্র মুহূর্তে প্রতিশ্রুতি দেন যে যশোরে কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা কিশোর সন্ত্রাসী গ্যাংয়ের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বিএনপি দেবে না।

ইফতার মাহফিলের অন্যান্য বক্তা

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে এই ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন। এছাড়া, মুক্তিযোদ্ধা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।