বাবার শেষ বিদায়ে প্যারোলে মুক্তি পেলেন কারাবন্দী ছাত্রলীগ নেতা
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় একটি মর্মস্পর্শী ঘটনা ঘটেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কারাবন্দী নেতা রাকিবুল ইসলাম জোমাদ্দর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে তাঁর বাবার জানাজায় অংশ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে তিনি পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।
জানাজায় অংশগ্রহণ ও পুনরায় কারাগারে ফেরত
রাকিবুল ইসলাম জোমাদ্দর (২৫) নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সুবিদপুর ইউনিয়নের কামদেবপুর গ্রামে তাঁর বাবা মোশাররফ জোমাদ্দরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে প্যারোলের আবেদন করার পর, স্বল্প সময়ের জন্য মুক্তির অনুমোদন পান রাকিবুল। পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁকে জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। জানাজায় অংশ নিতে বাড়ি এলে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। নির্ধারিত সময় শেষে রাতে পুলিশি পাহারায় তাঁকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশি প্রক্রিয়া ও ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থা
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম জানান, পরিবারের আবেদনের পর প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে রাকিবুলকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। পুরো সময় তিনি পুলিশি পাহারায় ছিলেন। জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে আবার কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জানাজার সময় রাকিবুলের পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরানো অবস্থায় ছিল, তবে হাতে হ্যান্ডকাফ ছিল না। ওসি আরিফুল আলম ব্যাখ্যা করেন, ১২ ঘণ্টার বেশি প্যারোলে মুক্তি দিয়ে আসামিকে বাইরে রাখার সুযোগ নেই। পুলিশ যে অবস্থায় কারাগার থেকে আসামিকে বুঝে পাবে, আবার সেই অবস্থায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আসামিকে বুঝিয়ে দেবে। তাই ডান্ডাবেড়ি খোলার সুযোগ নেই।
রাজনৈতিক মামলা ও পরিবারের আবেদন
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, একটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় এক মাস ধরে কারাগারে আছেন রাকিবুল ইসলাম। গতকাল সকালে তাঁর বাবার মৃত্যু হলে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে প্যারোলের আবেদন করা হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মুক্তির অনুমোদন মেলে।
নলছিটি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অনীক রহমান সরদার বলেন, একজন সন্তানের জন্য পিতৃবিয়োগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এমন পরিস্থিতিতে প্যারোলে এসে জানাজায় অংশ নেওয়াটা নিঃসন্দেহে আবেগঘন মুহূর্ত। আমরা রাকিবুলের নিঃশর্ত মুক্তি চাই।
এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে, যেখানে মানবিক দিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্যারোল ব্যবস্থার মাধ্যমে কারাবন্দীদের সাময়িক মুক্তির এই ঘটনা ঝালকাঠি অঞ্চলে নজর কেড়েছে।
