জামায়াত নেতা জোবায়েরের প্রথম আলোর অগ্নিদগ্ধ ভবনে প্রদর্শনী পরিদর্শন, হামলার তদন্ত ও বিচারের দাবি
জামায়াত নেতার প্রথম আলোর ভবনে প্রদর্শনী পরিদর্শন, তদন্ত দাবি

জামায়াত নেতার প্রথম আলোর অগ্নিদগ্ধ ভবনে প্রদর্শনী পরিদর্শন ও তদন্তের দাবি

জামায়াতে ইসলামীর মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জোবায়েরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রথম আলোর অগ্নিদগ্ধ ভবনে আয়োজিত শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ‘আলো’ দেখতে এসেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কারওয়ান বাজার, ঢাকায় অবস্থিত প্রথম আলোর কার্যালয়ে এই পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

হামলার তদন্ত ও বিচারের জোরালো দাবি

এহসানুল মাহবুব জোবায়ের প্রদর্শনী পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন এবং প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার তদন্ত করে বিচারের দাবি জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা আশা করব, যা ঘটেছে, এর তদন্ত করে বিচার করতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে সংঘবদ্ধ উগ্রবাদীরা প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এরপর ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই হামলার পর অগ্নিদগ্ধ ভবনে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশিষ্ট শিল্পী মাহবুবুর রহমানের শিল্প প্রদর্শনী ‘আলো’ শুরু হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের একটি প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ ও প্রদর্শনীর সময়সূচি

আজকের এই প্রদর্শনী দেখতে আসা জামায়াতের সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন এহসানুল মাহবুব জোবায়ের। দলটির অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন:

  • জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান
  • মজলিশে শুরার সদস্য আতাউর রহমান সরকার
  • মিডিয়া সেলের সদস্য অলিউল্লাহ নোমান
  • মোশাররফ হোসেন মাসুদ
  • জামায়াত নেতা শাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ

এই শিল্প প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং প্রতিদিন দুটি সময়স্লটে দেখা যাচ্ছে। প্রদর্শনীর সময়সূচি নিম্নরূপ:

  1. প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত
  2. বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত

প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, যা দর্শকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা সরবরাহ করছে।

ঘটনার পটভূমি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

প্রথম আলোর কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন এই প্রতিনিধিদলের পরিদর্শন রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে এই ইস্যুতে আরও আলোচনার সূত্রপাত করতে পারে। প্রদর্শনী ‘আলো’ শিল্পের মাধ্যমে আশা ও পুনরুত্থানের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর সংগ্রামকে প্রতিফলিত করে।