আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিনে সাদিক কায়েমের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সতর্কবার্তা
আ.লীগ নেতাদের জামিনে সাদিক কায়েমের প্রতিক্রিয়া

আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিনে সাদিক কায়েমের তীব্র প্রতিক্রিয়া

হত্যা মামলায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের জামিন পাওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদিক কায়েম। বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে, বেলা সোয়া পাঁচটার দিকে, তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করে তার ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জামিনের ঘটনা ও কায়েমের মন্তব্য

হাইকোর্ট জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের মামলায় কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে জামিন প্রদান করেছেন। একইভাবে, হত্যার অভিযোগসহ পৃথক পাঁচটি মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ছয় মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছে।

সাদিক কায়েম তার ফেসবুক পোস্টে বলেন, 'বদি, আইভিসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা জামিন পাচ্ছে। তাদের কার্যালয়গুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে। একদিকে এ গণশত্রুরা বের হচ্ছে। অন্যদিকে জুলাইয়ের আন্দোলনকারীদের ঢোকানোর নীলনকশা চলছে।' তিনি এটিকে একটি বিপজ্জনক প্রবণতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

সতর্কতা ও ভবিষ্যতের হুমকি

কায়েম আরও সতর্ক করে বলেন, 'সুরক্ষা অধ্যাদেশ'কে উপেক্ষা করে কথিত পুলিশ হত্যা তদন্তের নামে জুলাইকে মুছে ফেলার অপপ্রয়াসও লক্ষ্য করছি। তিনি দাবি করেন যে, যারা আজ এই ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুনর্বাসিত করছেন, তারা মনে রাখবেন যে এই আত্মঘাতী পদক্ষেপের পরিণতি থেকে তারাও রেহাই পাবেন না। তিনি বলেন, অচিরেই আপনারা নিজেরাও এই অপশক্তির নির্মম শিকারে পরিণত হবেন।

তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে নাটকীয় রদবদলের পরপরই সরকার-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানকে অন্যায্য সুবিধা দেওয়া শুরু হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। কায়েম বলেন, 'গণভোট ও জুলাই সনদকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুরোনো কায়দায় দলীয়করণ ও রাজনৈতিক পরিচয়ে সুবিধালাভের সংস্কৃতির প্রত্যাবর্তন পরিবর্তনকামী মানুষের রায়কে উপেক্ষা করার নামান্তর।'

জাতির ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ

সাদিক কায়েম স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যদি এই ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকে, তবে জাতির ভাগ্যে দাসত্ব ছাড়া আর কিছুই জুটবে না। তিনি সময়ের এই সন্ধিক্ষণে শুভ বুদ্ধির উদয় হওয়া জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে দেন যে, নতুবা ইতিহাসের কাঠগড়ায় কেউই রেহাই পাবেন না।

এই প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং অনেকেই কায়েমের বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ঘটনা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।