জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সতর্কবার্তা: ব্যাংক অব বাংলাদেশে 'মব কালচার' অর্থনীতির অবশিষ্টাংশ ধ্বংস করবে
শফিকুর রহমান: ব্যাংক অব বাংলাদেশে 'মব কালচার' অর্থনীতির ধ্বংস ডেকে আনবে

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের তীব্র প্রতিক্রিয়া: ব্যাংক অব বাংলাদেশে 'মব কালচার' অর্থনীতির জন্য হুমকি

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকে গতকাল সংঘটিত ঘটনাকে সরকারসমর্থিত 'মব কালচারের' আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি এটিকে দুর্ভাগ্যজনক ও পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৪৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বক্তব্য দেন।

ব্যাংক অব বাংলাদেশে উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা: গভর্নরের পদত্যাগ ও নতুন নিয়োগ

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে একদল কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিক্ষোভ-উত্তেজনার মধ্য দিয়ে গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে পদত্যাগ করতে হয়। একই দিনে সরকার মো. মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়। এছাড়াও, আহসান এইচ মনসুরের একজন উপদেষ্টাকে 'মব' তৈরি করে ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

শফিকুর রহমানের হুঁশিয়ারি: অর্থনীতির অবশিষ্টাংশ ধ্বংসের আশঙ্কা

শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও তাঁর উপদেষ্টার মতো সম্মানিত ব্যক্তিদের এভাবে অপমান করার অধিকার কারও নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের অর্থনীতিতে ইতিমধ্যেই ফ্যাসিবাদের প্রভাব, দুর্নীতির মহামারি, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের মতো সমস্যা বিদ্যমান। তিনি সতর্ক করে দেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতির অবশিষ্টাংশও ধ্বংস হয়ে যাবে।

সমাজের সব স্তর থেকে প্রতিবাদের আহ্বান

জামায়াতে ইসলামীর আমির মনে করেন, এই বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে দলমত-নির্বিশেষে সমাজের সব স্তর থেকে প্রতিবাদ হওয়া উচিত। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মব সৃষ্টি করে দায়িত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন নানা উৎপাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তিনি সরকারকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চান যে, সত্যিকারভাবে একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হলে এসব অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়নের দাবি

শফিকুর রহমান একই সঙ্গে দলীয় আনুগত্য নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশপ্রেমিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এই পদক্ষেপ ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করা সম্ভব হবে না।

এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি বিতর্কিত আলোচনার সূত্রপাত করেছে, যা ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।