জামায়াতে ইসলামীর জোরালো দাবি: পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, এই হত্যাকাণ্ড ছিল বাংলাদেশের মৌলিক ভিত্তিতে আঘাত হানার একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।
আলোচনা সভায় প্রধান বক্তব্য
বুধবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ কার্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, 'পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা আরও সাহস পাবে।' তাঁর মতে, এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মুখোশ উন্মোচন না করা হলে ভবিষ্যতে অনুরূপ আক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে।
নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের মুক্তির দাবি
পাশাপাশি, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারের নামে যেসব নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তাদের মুক্তি ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোরালো দাবি জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সদস্যদের প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
অন্যান্য বক্তাদের মতামত
বিশেষ অতিথি হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, 'পিলখানা বিদ্রোহ কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি ছিল দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের নির্মূল করে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র।' তিনি আরও যোগ করেন যে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের নীরবতা এই ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত বহন করে।
রফিকুল ইসলাম খানের মতে, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত।
সভার আয়োজন ও অন্যান্য অংশগ্রহণকারী
জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকিরের সভাপতিত্বে এবং দক্ষিণের সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলামের পরিচালনায় এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
- দক্ষিণের নায়েবে আমির হেলাল উদ্দিন
- সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন
- সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান
- বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম
শেষে বিশেষ দোয়া
সভা সমাপ্তির পর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনা কর্মকর্তাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত সকল আন্দোলন-সংগ্রামের শহীদ ও আহতদের জন্য বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন। এই দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে।
