জামায়াতে ইসলামীর শূরা সদস্য নির্বাচন: লক্ষাধিক রুকনের ভোটে ১৮০ জনের নির্বাচন চলছে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিসে শূরার সদস্য নির্বাচনে অভ্যন্তরীণ ভোটগ্রহণ কার্যক্রম বর্তমানে সক্রিয়ভাবে চলছে। সারা দেশের লক্ষাধিক সদস্য বা রুকনদের প্রত্যক্ষ গোপন ব্যালটের মাধ্যমে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা দলের গঠনতন্ত্রের ২০ ধারার ৪(ক) উপধারা অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।
নির্বাচন প্রক্রিয়া ও কাঠামো
জামায়াতে ইসলামীর কাঠামো তিন স্তরে সাজানো, যেখানে মজলিসে শূরা কেন্দ্রীয় স্তর হিসেবে কাজ করে। সূত্রমতে, আগামী ২০২৬, ২০২৭ ও ২০২৮ এই তিন বছরের জন্য মোট ১৮০ জন শূরা সদস্য নির্বাচিত হবেন। নির্বাচিত সদস্যদের পাশাপাশি, আমিরে জামায়াত কিছু সংখ্যক সদস্যকে মনোনয়ন দিতে পারবেন, তবে তা নির্বাচিত সদস্যদের সংখ্যার শতকরা ৫ ভাগের বেশি হবে না।
এই নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন জামায়াতের অন্যতম সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম। গত অক্টোবরে সারা দেশে রুকনদের ভোটে আমিরে জামায়াত নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে, যাতে বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান ২০২৬-২৮ মেয়াদের জন্য তৃতীয়বারের মতো দলের আমির নির্বাচিত হয়েছেন।
পুনর্গঠন ও নেতৃত্ব পরিবর্তন
পুনর্গঠনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো নায়েবে আমির পদে এ টি এম আজহারুল ইসলামকে ১ নম্বরে রাখা। তিনি একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রায় ১৩ বছর কারাবন্দি থাকার পর মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, কিন্তু ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর খালাস ও মুক্তি পান। গত বছরের ২৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার প্রথম অধিবেশনে তাকে নায়েবে আমির করা হয়।
আগে নায়েবে আমির ছিলেন তিনজন—মজিবুর রহমান, সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ও আ ন ম শামসুল ইসলাম। এবার চারজনকে নায়েবে আমির করা হয়েছে, যা দলের নেতৃত্বে পরিবর্তন নির্দেশ করে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জামায়াতের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নভেম্বরের শেষ নাগাদ মজলিসে শূরার নির্বাচনের ফল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে আমিরে জামায়াত ও নবনির্বাচিত মজলিসে শূরার সদস্যদের শপথ হতে পারে একই সম্মেলনে, যা দলের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা দেবে।
এই নির্বাচন প্রক্রিয়া জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র ও সাংগঠনিক শক্তির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি জেলা প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত হবে না বলে গঠনতন্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
