সম্মিলিতভাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেন ত্রাণমন্ত্রী দুলু
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্মিলিত উদ্যোগ: দুলু

সম্মিলিত উদ্যোগে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সোমবার রংপুরে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামীতে কোনো বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সম্মিলিতভাবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। একইসঙ্গে রংপুরের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে নেওয়া হবে নানা কার্যকরী উদ্যোগ।

তিস্তাপারের সন্তানের আবেগময় উচ্চারণ

মন্ত্রী দুলু আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, "তিস্তা আন্দোলনের সঙ্গে আমি জড়িত ছিলাম, আমি নিজেও তিস্তাপারের সন্তান। তিস্তাপারের মানুষের সুখ-দুঃখ আমাকে বিচলিত করে। আমার শৈশবের তিস্তার নানা স্মৃতি জড়িয়ে আছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে দুই কোটি মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হোক।

টেকসই কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন

দুলু স্পষ্ট করে বলেন, ছোট ছোট প্রকল্প নিয়ে তিস্তায় বিচ্ছিন্নভাবে কাজ না করে সম্মিলিতভাবে বড় প্রকল্প হাতে নিয়ে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। টেকসই বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আগামীতে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা হবে সমন্বিত প্রকল্পের মাধ্যমে। এতে তিস্তা শাসন, খননসহ তিস্তাপারের মানুষের দাবি অনুযায়ী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

রংপুরের উন্নয়ন বৈষম্য দূরীকরণ

মন্ত্রী রংপুরের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে নানা কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, "রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নানা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের মাধ্যমে জনগণের উন্নত সেবা নিশ্চিত করা হবে।" প্রধানমন্ত্রী রংপুরে এসে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে শিল্প কারখানা তৈরির কথা বলেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রংপুর অঞ্চল সম্পর্কে তিনি বলেন, "এখানকার শ্রম সস্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো। তাই অন্য অঞ্চলের মতো রংপুর বিভাগেরও সমহারে উন্নয়ন হবে।" ভবিষ্যতে রংপুরে যাতে বাজেটে কোনো বৈষম্যের শিকার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান

সরকারি কর্মকর্তাদের দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, "সহজ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও দ্রুততম সময়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করে জনপ্রশাসনকে জনবান্ধব হয়ে উঠতে হবে।" একই সঙ্গে প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মাদক ও অনলাইন জুয়া বিরোধী কঠোর অবস্থান

মন্ত্রী দুলু মাদকের ব্যাপারে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করার নির্দেশ দেন। তবে এর আগে মাদকের বিষয়ে কাউন্সিলিং করে মাদকাসক্তদের বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে বলেও তিনি মত দেন। সেই সঙ্গে প্রতিটি জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসককে অনলাইন জুয়া বন্ধের কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেন।

বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি

মন্ত্রী আরও বলেন, "বিএনপি জনবান্ধব রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি জনবান্ধব সরকার। সরকার জনগণের দাবি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্বল্প সময়ের ভেতরে বাস্তবায়ন করবে।" জুলাই আন্দোলনের সময় নিহত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পরিবারের সদস্যরা মামলা করতে পারবেন কিনা- এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেকোনো পরিবারের মামলা করার অধিকার আছে, কারো ওপর অন্যায় হলে আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন এটাই স্বাভাবিক।

উপস্থিত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা

মতবিনিময় সভায় প্রশাসনকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুতকে স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির রংপুর মহানগর কমিটি আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু। এছাড়া বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসানসহ ৮ জেলার ডিসি, এসপি উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বিভাগের সব জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। মন্ত্রী দুলুর এই ঘোষণা তিস্তাপারের মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া।