ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুনের ঘটনা
ময়মনসিংহে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও টায়ারে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে এই কার্যক্রম চালায়। তারা কার্যালয়টিকে পাবলিক টয়লেট হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
জাতীয় বিপ্লবী মঞ্চের এক নেতার নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর মোহাম্মদ আয়াসের নির্দেশনায় নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা কলাপসিবল গেটের পাশের জানালা ভেঙে ফেলে এবং অপর একটি জানালার অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ভেতরে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও আওয়ামী লীগের কর্মসূচির ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। কার্যালয়ের সামনে একটি টায়ারে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা এসে টায়ারের আগুন নিভিয়ে দলটিকে সরিয়ে দেয়।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য
আল নূর মো. আয়াস ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, 'আওয়ামী লীগের দোসররা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই রেদোয়ান হোসেনকে প্রকাশ্যে হত্যা করেছে। এখন তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়। আমাদের যেসব ভাইয়ের রক্তে এই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হয়েছে, সেখানে ফ্যাসিবাদের কোনো জায়গা হবে না।'
তিনি আরও যোগ করেন, 'কার্যালয়টি অফিশিয়ালি টয়লেট হিসেবে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিলাম। যত দিন পর্যন্ত বাংলার মাটিতে খুনিদের বিচার না হবে, তত দিন পর্যন্ত এই খুনিদের কোনো কার্যক্রম করতে দেওয়া যাবে না। আমরা খুনিদের মারতে চাই না, আইন অনুযায়ী তাদের ব্যবস্থা নিতে চাই।'
পুলিশের প্রতিক্রিয়া
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুরের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠানো হয় এবং ভাঙচুর থেকে বিরত করা হয়। যারা ভাঙচুর করেছে আমরা তাঁদের তথ্য নিচ্ছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভাঙচুর বা নাশকতামূলক কোনো কার্যক্রমে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।'
পূর্ববর্তী ঘটনা
এর আগে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি এই কার্যালয়ে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বেলা ১১টার পর ময়মনসিংহ নগরের গাঙ্গিনারপাড় শিববাড়ি এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী এবং জাতীয় বিপ্লবী মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মো. আয়াস।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন শ্রমিকসহ চারজন ব্যক্তি। এক পর্যায়ে স্থানীয় কয়েকজনের তোপের মুখে পড়েন আল নূর। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, তবে উত্তেজনা কিছুক্ষণ অব্যাহত থাকে।
