রাজশাহীতে রিকশায় চলাচল করছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, নিরাপত্তা প্রটোকল নেই
রাজশাহীতে রিকশায় চলাচল করছেন ভূমিমন্ত্রী মিনু

রাজশাহীতে রিকশায় চলাচল করছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু

রাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু কোনো ধরনের প্রটোকল ছাড়াই রিকশায় চড়ে চলাচল করছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে রিকশায় বের হন এবং সাহেব বাজার এলাকার ‘মনুলাইট গার্ডেন’-এ তার ব্যক্তিগত অফিসে আসেন। এ সময় তার সঙ্গে পুলিশের কোনো প্রটোকল বা নিরাপত্তা বাহিনী দেখা যায়নি, যা নগরবাসীর মধ্যে মুগ্ধতা সৃষ্টি করেছে।

দীর্ঘদিনের রিকশাচালক ও সহকারীর সাক্ষ্য

রিকশাটি চালাচ্ছিলেন তার দীর্ঘদিনের রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুস, যিনি বলেন, ‘১০ বছর ধরে তার রিকশা চালাচ্ছি। স্যার, আগে যেভাবে আমার রিকশাতে চড়ে চলাফেরা করতেন, ভূমিমন্ত্রী হওয়ার পরও কোনো প্রটোকল ছাড়াই রিকশায় চলাফেরা করছেন। এটা দেখে আমাদেরও ভালো লাগছে।’ ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রব পান্না, যিনি ১১ বছর ধরে কাজ করছেন, বলেন, ‘মিজানুর রহমান আগে থেকেই বাজার সদাই থেকে শুরু করে সব কাজ করতেন রিকশায় চড়ে। ভূমিমন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি কোনো ধরনের প্রটোকল ছাড়াই রিকশায় চলাচল করছেন।’

সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন

মিজানুর রহমান মিনুর রাজশাহীতে চলাচলের একমাত্র বাহন হলো রিকশা। বাজার করা থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক সব কাজেই তিনি রিকশার ওপর নির্ভর করেন। এমনকি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী সদর আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পরও তিনি রিকশায় চড়েই নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছেন। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে প্রায় ২৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক এ মেয়র।

ভূমিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে রাজশাহী আসেন। নিজের শহরে ফেরার পর থেকেই তিনি কোনো প্রটোকল ছাড়াই সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে রিকশায় চলাচল করছেন। শনিবার তিনি নগরীর সাগরপাড়া এলাকার কাঁচা বাজারে গিয়ে সেখানকার সবজি ব্যবসায়ী ও মুরগি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করেছেন এবং কৌশল বিনিময় করেছেন।

স্থানীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া

রাজশাহী মহানগর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, ‘রাজশাহী সদর আসন থেকে ৪৬ বছর পর এবং রাজশাহী জেলা থেকে ২১ বছর পর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেল রাজশাহী। এটি রাজশাহীবাসীকে উৎফুল্ল ও উচ্ছ্বসিত করেছে। আমরা চাই মিজানুর রহমান মিনু ভাই রাজশাহীসহ দেশবাসীর কাছে ‘মিনু ভাই’ হিসেবেই পরিচিত হবেন এবং রাজশাহী ও দেশের কল্যাণে কাজ করবেন।’

এভাবে জনগণের সঙ্গে মিশে সবার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে তিনি দেশের জন্য এবং সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে পারেন—এটা আশা প্রকাশ করেছেন তার সহকারী আব্দুর রব পান্না। রাস্তার দুই পাশে থাকা মানুষদের দুহাত নেড়ে অভিবাদন জানান মিজানুর রহমান মিনু, যা তার সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিক সম্পর্কের প্রতিফলন।