মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের ভাষা দিবসে বক্তব্য: 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' বাংলার ভাষা নয়
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের ভাষা দিবসে বক্তব্য

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের ভাষা দিবসে বক্তব্য: 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' বাংলার ভাষা নয়

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু)। তিনি বাংলা ভাষার প্রতি উদাসীনতা এবং কিছু শব্দের ব্যবহার নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

ভাষার প্রতি উদাসীনতা নিয়ে মন্ত্রীর মন্তব্য

শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় মন্ত্রী বলেন, 'আজ বাংলা ভাষা সম্পর্কে আমরা নিজেরা যদি একটু চিন্তা করতাম, তাহলে আজকের জেন-জি ইনকিলাব বলত না। তারা ইনকিলাব বললে আমার রক্তক্ষরণ হয়। এটার জন্যই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম? অথচ না গেলেও চলত। সমাজ পরিবর্তনের জন্য জীবন দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু সমাজ যে উল্টো দিকে হাঁটে, এখন সেটা দেখছি।'

'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান

বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেন, 'বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তাহলে 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' চলবে না। ইনকিলাব, ইনকিলাব মঞ্চ ও আজাদির মতো এখন নতুন নতুন শব্দ শুনছি। ইনকিলাব জিন্দাবাদ, ইনকিলাব মঞ্চ—এগুলোর বাংলার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। যারা আমাদের মায়ের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, এগুলো তাদের ভাষা।'

তিনি এ বিষয়ে কথা বলার কারণে নিজেকে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে বলেও উল্লেখ করেন। মন্ত্রী বলেন, 'সুতরাং দেশকে ভালোবেসে নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। এসব কথা বলায় অনেকেই আমাকে ভারতের দালাল ও 'র'-এর এজেন্ট বানিয়ে ফেলবে। তারপরও আমি বলব; কারণ, এটা বলার জন্যই আমি জীবন দিতে গিয়েছিলাম, মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম।'

ভাষার ইতিহাসের গুরুত্ব

মাতৃভাষার ইতিহাসের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, 'বাংলা ভাষা ও তার ইতিহাস নিয়ে আমরা যত্নবান না। যে জাতি তার নিজের ইতিহাস জানে না, সে জাতি কোনো দিনও উন্নতি করতে পারে না। আমরা নিজের ভাষাকে ঠিকমতো জানার চেষ্টা করিনি বলেই আমাদের মাঝে ন্যাশনালিজম গ্রো করে না।'

আলোচনা সভার অন্যান্য অংশগ্রহণকারী

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন:

  • পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম
  • স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম
  • সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান প্রমুখ

এই অনুষ্ঠানটি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্যকে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং বাংলা ভাষার সংরক্ষণ ও বিকাশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।