নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শহীদ দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন, ভিডিও ভাইরাল
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শহীদ দিবসে শ্রদ্ধা, ভিডিও ভাইরাল

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শহীদ দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন, ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা নিবেদনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত বারোটার পর একুশের প্রথম প্রহরে উপজেলা সদরের জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে দলটির নেতা-কর্মীরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

তিনটি স্থানে পৃথকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন

শুধু জগৎমণি বিদ্যালয়েই নয়, বিশকাকুনি ইউনিয়ন ও নারান্দিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় শহীদ মিনারেও পৃথকভাবে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনতাসির মাসুদ খান ফাহিম ও আরশাদ শেখের ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা ভিডিওতে এই দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় নেতা-কর্মীরা ‘ভয় করি না মরণে’, ‘নেতা মোদের শেখ মুজিব’ এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন। এই ভিডিওটি ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

আওয়ামী লীগ নেতার ব্যাখ্যা

এ বিষয়ে পূর্বধলা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা ফয়জুর রহমান ওরফে ঝন্টু বলেন, “উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা আমেরিকাপ্রবাসী আমানুর রশিদ খানের নির্দেশনায় উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সব ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়েছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে নারান্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও বিশকাকুনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে স্থানীয় শহীদ মিনারগুলোতেও পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। এই সকল অনুষ্ঠানের ভিডিও ও ছবি সামাজিক মাধ্যমেই প্রচারিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

পুলিশের বক্তব্য

অন্যদিকে, পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, “পূর্বধলা উপজেলায় নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো নেতা-কর্মী ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়েছে—এ রকম কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।” তার এই মন্তব্য ঘটনাটি নিয়ে আরও জটিলতা তৈরি করেছে এবং প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে।

এই ঘটনাটি নেত্রকোনা জেলার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের এমন প্রকাশ্য কার্যক্রম রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। সামাজিক মাধ্যমের ভিডিওগুলো এই বিষয়ে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।