শহীদ মিনারে জামায়াতের শ্রদ্ধা: প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের ঐক্যের আহ্বান
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পবিত্রক্ষণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রথমবার শ্রদ্ধা জানানোকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভোরের আলো ফোটার আগে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অতীতের বিভেদ ভুলে ঐক্যের আহ্বান
ইশরাক হোসেন বলেন, অতীতের বিভেদ ভুলে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমেই মুক্তিযুদ্ধের আসল উদ্দেশ্য সফল করা সম্ভব। তিনি জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান ও ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, যে কারণেই হোক দেশে এবং দেশের বাইরে গিয়ে তারা তাদের অবস্থান নিয়ে ক্ষমা চেয়েছে। যদিও তাদের ক্ষমা চাওয়ার ভাষাটা অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, আমরা কি এখনো এই বিভেদকে আঁকড়ে ধরে থাকব? আমরা কি জাতিকে আবারও বিভক্ত করে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবো, ঠিক যেভাবে আওয়ামী লীগ নিয়ে গিয়েছিল? তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বিভাজনের রাজনীতি দেশের জন্য কখনোই কল্যাণ বয়ে আনে না এবং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি।
বর্তমান সংকট মোকাবিলায় ঐক্যের গুরুত্ব
ইশরাক হোসেন আরও বলেন, আমাদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের বর্তমান সংকটগুলো মোকাবিলা করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিভেদ নয়, বরং ঐক্যই ছিল আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের আসল উদ্দেশ্য। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে শহীদ দিবস পালিত হওয়া একটি ইতিবাচক দিক।
নতুন সরকার দেশে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায় যেখানে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনগুলো মিটে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই প্রক্রিয়ায় সব দলের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানান।
জামায়াতের প্রথমবার শ্রদ্ধা জানানো
প্রসঙ্গত, প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে গিয়ে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়েছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতারা। এই ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, শহীদ দিবসের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে শক্তিশালী করবে। এই পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সংলাপ ও সমঝোতার পথ সুগম করতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
