মন্ত্রী এ্যানির সতর্কবার্তা: সুন্দর বাংলাদেশ গড়ায় বাধাদানকারীরা দেশের শত্রু
মন্ত্রী এ্যানি: সুন্দর বাংলাদেশ গড়ায় বাধাদানকারীরা শত্রু

লক্ষ্মীপুরে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও মন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নিয়ে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন।

মন্ত্রীর সতর্কবার্তা: বাধাদানকারীরা দেশের শত্রু

মন্ত্রী এ্যানি বলেন, ‘সুন্দর বাংলাদেশ গড়ায় যাঁরা বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাঁরা দেশের শত্রু হিসেবে পরিগণিত হবে। সুতরাং, মব কালচার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে, সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। কেউ যদি এর বাইরে কিছু করতে চায়, সেটার দায়দায়িত্ব তাঁদের ওপর বর্তাবে।’

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে, এবং যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বা বাধা পরিহার করতে হবে। এই আহ্বান তিনি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে উদ্দেশ্য করে জানিয়েছেন, বিশেষ করে যুবসমাজ ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে মন্ত্রীর ব্যাখ্যা

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী এ্যানি বলেন, ‘এখানে শপথ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। সংসদ নির্বাচন হয়েছে, সংসদ সদস্যদের শপথ হয়েছে, আমরা শপথ নিয়েছি। “হ্যাঁ”-“না” ভোটও হয়েছে, গণভোটে “হ্যাঁ” জয়যুক্ত হয়েছে। খুব স্বাভাবিক কারণেই পার্লামেন্টে বিলটা রেইজ হবে। “হ্যাঁ”-এর শপথের কোনো প্রয়োজন নেই। “হ্যাঁ” অটোমেটিক কার্যকর হবে।’

তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, সংসদীয় প্রক্রিয়া অনুসারে ইতিমধ্যে গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট জয়লাভ করায় সংবিধান সংশোধনের বিল স্বাভাবিকভাবেই কার্যকর হবে, এবং অতিরিক্ত শপথের প্রয়োজন নেই। এই বক্তব্যে তিনি সরকারের আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।

অন্যান্য উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

মন্ত্রীর সঙ্গে শহীদ মিনারে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সাহাব উদ্দিন, বাফুফে সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাঈন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন প্রমুখ। এই উপস্থিতি স্থানীয় রাজনৈতিক সহযোগিতা ও ভাষা আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতিফলন ঘটায়।

লক্ষ্মীপুরে এই অনুষ্ঠানটি ভাষাশহীদদের স্মরণে একটি মর্যাদাপূর্ণ আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দ একত্রিত হয়ে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন। মন্ত্রী এ্যানির বক্তব্য দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার প্রতি সরকারের অঙ্গীকারকে তুলে ধরেছে, পাশাপাশি জনগণকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে।